মোট পৃষ্ঠাদর্শন

সাধারন বিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাধারন বিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৬ মার্চ, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-২৮] :: বৃষ্টি কিভাবে হয় ?

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) ।সবাই ভাল আছেন আল্লাহর রহমতে আশা করি।

কুরআনে প্রযুক্তি [পর্ব-২] :: বৃষ্টি কিভাবে হয় ?

এ বিষয়টি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত একটি রহস্যময় ব্যাপার ছিল। আবহাওয়া নির্ণয়ের জন্য কেবলি সেদিন যখন রাডার আবিষ্কৃত হলো, তার পর পরই জানা গেল বৃষ্টি উৎপন্ন হওয়ার পর্যায়গুলো । সে অনুসারে বৃষ্টি উৎপন্ন হয় তিনটি পর্যায়ে। এমনকি ১৬০০শ শতাব্দির সূচনা লগ্নে বিজ্ঞানী ফ্লেজ মিলিটেস তিনি Hydrological science সম্পর্কে সর্বপ্রথম যে তত্বটি উপস্থাপন করেছিলেন তা ছিল অসম্পূর্ন। বেশ কয়েকটি ধাপের বর্ননা তারঁ তত্বে অনুপস্থিত ছিল তার মধ্যে মেঘে ঠান্ডা বায়ুর উপস্থিতি ও বাস্পের স্তরীভূত হওয়ার ব্যাপারটি উল্লেখ ছিলনা যা কুরআন ১৪৩০ বৎসর আগে উল্লেখ করেছে।

প্রথমতঃ বাস্পীভূত জল রৌদ্র বা বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে উপরে বাতাসে উঠে আসে, এরপর মেঘমালা উৎপন্ন হয় আর অবশেষে বৃষ্টিকণা দেখা দেয়। কোরআনে প্রদত্ত বৃষ্টি উৎপাদনের বর্ণনাটি ঠিক এ পদ্ধতিরই উল্লেখ করেছে। একটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা ব্যাপারটি এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ

030.048 اللَّهُ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيَاحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَيَبْسُطُهُ فِي السَّمَاءِ كَيْفَ يَشَاءُ وَيَجْعَلُهُ كِسَفًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلالِهِ فَإِذَا أَصَابَ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ

তিনি আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চারিত করে। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়। (কোরআন, ৩০: ৪৮)

শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-২৭] :: আমাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মস্তিষ্কের কোন অংশটুকু দায়ী

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) ।সবাই ভাল আছেন আল্লাহর রহমতে আশা করি।

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-২৭] :: আমাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মস্তিষ্কের কোন অংশটুকু দায়ী

আসুন কুরআনের একটি আয়াতে পর্যবেক্ষন করি-

096.015 كَلا لَئِنْ لَمْ يَنْتَهِ لَنَسْفَعًا بِالنَّاصِيَةِ

096.015 Let him beware! If he desist not, We will drag him by the forelock,-

096.016 نَاصِيَةٍ كَاذِبَةٍ خَاطِئَةٍ

096.016 A lying, sinful forelock!

কখনই নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তিষ্কের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই- মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ। (96: 15-16)

Al-Qur'an, 096.015-016 (Al-Alaq [The Clot, Read])

‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪

‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন-

‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই- মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ। এ প্রকাশটি সবচেয়ে খেয়াল করার দাবী রাখে। বেশ কিছু বছর আগের চালানো গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, মস্তিষ্কের প্রিফ্র্রন্টাল অঞ্চল যা মস্তিষ্কের বিশেষ বিশেষ কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, তা মাথার খুলির অভ্যন্তরে সামনের অংশে

রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব- ২৬] :: আমাদের চারপাশে সবকিছুই কি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে?

আমাদের চারপাশে সবকিছুই কি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে?

বোধকরি একটু আশ্চর্য হচ্ছেন সব কিছু জোড়ায় জোড়ায় কি করে হতে পারে! প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটি সত্য। আল- কুরআনে যখন এ সত্যটি মানববিশ্বের নিকট প্রকাশ করেছিল তখন এর নিগুঢ় তথ্যটি মানুষ অনুধাবন করতে সমর্থ হয়নি। কিন্তু বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পদাচারনায় মুখরিত। ১৪৩০ বছর হতে এখনো পর্যন্ত আরবী সাহিত্যিকগন নিদ্ধিধায় স্বীকার করে আসছেন কুরআনের মতো অতি উচ্চমানের কবিতা ও সাহিত্য রচনা মানুষের দ্বারা সম্ভব নয় , সে সাথে তাল মিলিয়ে আমরা যদি তথ্য প্রযুক্তির দুনিয়ায় তাকাই মুসলিম হিসেবে গর্ব করে বলি বিজ্ঞান ১০ বা ৫০ বা ২০০ বছর আগে যা আবিষ্কার করেছে কুরআনে তার অনেক কিছুই ১৪৩০ বছর আগে মানুষের জন্য নিদর্শন স্বরুপ তুলে ধরেছে। আল্লাহপাক মানুষকে বিভিন্ন Signs বা কুরআনিক তথ্যের মাধ্যমে মানুষকে এক সৃষ্টিকর্তার ইবাদতের দিকনির্দেশনা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এ সমস্ত মহাবিশ্ব হটাৎ করে সৃষ্টি হয়নি নিঃসন্দেহে এ বিশাল সিষ্টেমের পেছনে কাজ করছে Master of Creation যাকে আমরা আল্লাহ্ বলি। আল্লাহপাক বলেন-

041.053 سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ

”এখন আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করাব পৃথিবীর দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; ফলে তাদের কাছে ফুটে উঠবে যে, এ কোরআন সত্য। আপনার পালনকর্তা সর্ববিষয়ে সাক্ষ্যদাতা, এটা কি যথেষ্ট নয়? ” (৪১ :৫৩) (অনুবাদ:- মাওলানামুহিউদ্দীন, উম্মুলকোরা, সৌদিআরব)

041.053 Soon will We show them our Signs in the (furthest) regions (of the earth), and in their own souls, until it becomes manifest to them that this is the Truth. Is it not enough that thy Lord doth witness all things? (Translated by- Asad)

Al-Qur'an, 041.053 (Fussilat [Explained in Detail])

মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব- ২৫] :: আল-কুরআনে মাদক ও শুয়োরকে কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে?

আসসালামুআলাইকুম ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি সবাইকে :)

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব- ২৫] :: আল-কুরআনে মাদক ও শুয়োরকে কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে?

চিকিৎসা বিজ্ঞানীগন বলেন বর্তমানে শুয়োর খাওয়ার কারনে মানুষের ৭০ ধরনের রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে, শূকরের মাংস মানুষের শরীরের জন্য অত্যধিক ক্ষতিকর। কিছুদিন পূর্বেও মনে করা হত শূকরের মাংসে Trichina Parasite (একপ্রকার পরজীবি জীবাণু)-ই মানুষের শরীরের জন্য একমাত্র বিপত্তি। বৈজ্ঞানিকরা বর্তমানে শূকরের মাংসের আরও অনেক ক্ষতিকর দিক আবিষ্কার করেছেন। সেসব গবেষণার কিছু নিম্নে তুলে ধরা হল :

শুয়োর খাওয়ার ফলে ফিতাকৃমি,গোল কৃমি,হুক কৃমি যার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ দেহের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হয়, এর মধ্যে-

১.Taenia Solium নামে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ফিতাকৃমি আছে যারা মানুষের পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছে যায়। এর ডিম রক্তের সাথে মিশে গিয়ে শরীরের প্রায় সর্বস্থানে জমা হয় এমন কি এটা মস্তিষ্কে পৌছে তার প্রভুত ক্ষতি সাধন করতে পারে ফলে মস্তিষ্ক বিকৃতি হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৮] :: সুরক্ষিত ছাদ- Venn Allen belt

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) । আশা করি ভালো আছেন?

কুরআনে প্রযুক্তি [পর্ব-] :: সুরক্ষিত ছাদ- Venn Allen belt

magosphere

বিংশ শতাব্দীতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারা আকাশ কতৃক সুরক্ষার বৈশিষ্ট্যটি প্রমাণিত হয়েছে। স্যার Venn Allen পৃথিববি বাসীর কাছে গবেষনালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করে বলেন যে,- আমাদের পৃথিবী পৃষ্ঠের নীচে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী Magnetic field আছে যা আমাদের বায়ুমন্ডলের চারিপাশে একটি বেল্টের মতো বলয় সৃষ্টি করেছে, পরবর্তীতে আরো গবেষনায় বিজ্ঞানীগন নিশ্চিন্ত হন এবং তারঁ নামানুসারে এ বলয়ের নামকরন হয় “Venn Allen belt” । জীবনের অবিরাম গতিধারা বজায় রাখার জন্য পৃথিবীকে ঘিরে যে বায়ুমন্ডল রয়েছে তা বেশ গুরত্বপূর্ণ কাজ করে যা‪চ্ছে। যখন বড়, ছোট বহু উল্কা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তখন বায়ুমন্ডল এদের বেশিরভাগকেই ভূপৃষ্ঠে পতিত হতে দেয় না। এভাবে পৃথিবীর জীবজগতকে উল্কা পতনের ক্ষতিকর দিক থেকে বাঁচিয়ে দেয় বায়ুমণ্ডল। তা ছাড়া মহাশূণ্য থেকে জীবিত বস্তু Asteroid_hitting_the_Earth_d_by_Crypdanসমূহের জন্য ক্ষতিকর যে রশ্মি নির্গত হয় তাকে ফিল্টার করে বা ছেঁকে শোধন করে বায়ুমন্ডল। কৌতুহলের ব্যাপারটি হলো এই যে, যেসব রশ্মিসমূহ জীবের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী, যেমন, দর্শনযোগ্য আলো, Near Ultraviolet Light আর বেতার তরঙ্গকেই বায়ুমন্ডল অতিক্রম করতে দেয়। এ সমস্ত রশ্মি জীবনের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। Ultraviolet Ray, যেটি কিনা কেবল আংশিকভাবে বায়ুমন্ডল কর্তৃক আসতে পারে, তা উদ্ভিদের সালোক সংশ্লেষণ আর সমস্ত জীবসমূহের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। সূর্য থেকে যে অতি গাঢ় আল্ট্রভায়োলেট রশ্মি নির্গত হয়, তা বায়ুমন্ডলের ওযোন স্তর দিয়ে ফিল্টার হয় ; এভাবে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির অত্যন্ত সীমিত আর অতি প্রয়োজনীয় অংশ ভূ-পৃষ্ঠে এসে পোঁছে। বায়ুমন্ডলের সুরক্ষার কাজ এখানেই শেষ হয়না, মহাশূণ্যের প্রায় -২৭০ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের মতো বরফ ঠান্ডা তাপমাত্রা থেকেও বায়ুমন্ডল পৃথিবীকে রক্ষা করে থাকে। আল-কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা আকাশের একটি অত্যন্ত কৌতুহলকর বৈশিষ্ট্যের প্রতি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন :

021.032 وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَقْفًا مَحْفُوظًا وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ

আর আমি আসমানকে সৃষ্টি করেছি একটি সুরক্ষিত ছাদরূপে, কিন্তু তারা তার নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।(সুরা আম্বিয়া- ২১ : ৩২)(অনুবাদ:- মাওলানা মুহিউদ্দীন, উম্মুল কোরা, সৌদি আরব)

image_thumb9_thumbসূর্যে প্রতি মিনিটে বিস্ফোরণের ফলে নির্গত শক্তি যে কি পরিমাণ ক্ষমতা রাখে তা মানব মন কদাচিতই ভাবতে পারে। এর একটিমাত্র বিস্ফোরণ হিরোশিমায় পতিত ১০০বিলিয়ন এটম বোমার সমতুল্য। বায়ুমন্ডল আর ভ্যান এলেন বেল্টের জন্য এই শক্তির ক্ষতিকর দিক থেকে মহাবিশ্ব নিরাপদ রয়েছে।মানব জীবনের জন্য পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্যপূর্ণ করে সৃষ্ট পৃথিবী থেকে বায়ুমণ্ডলের বাইরে মহাশূণ্যে যদি আমরা সরে যাই, তবে প্রচন্ড বরফ শীতল ঠান্ডার কবলে পড়বো। পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড দ্বারা তৈরী ম্যাগনেটোস্ফিয়ার স্তর পৃথিবীকে মহাশূণ্যজাত বস্তুর ক্ষতিকর কসমিক রশ্মি এবং কণাসমূহ থেকে নিরাপদে রাখার জন্য বর্ম হিসেবে কাজ করে। ম্যাগনেটোস্ফিয়ার যার নাম ভ্যান এলেন বেল্ট - সেটিই উপরের চিত্রে দেখা যা‪চ্ছে। পৃথিবী থেকে সহস্র সহস্র কিলোমিটার উপরে অবস্থিত এই বেল্টটি মারাত্মক ক্ষতিকর শক্তি থেকে পৃথিবীর জীব জগৎকে রক্ষা করে যা‪চ্ছে, নচেৎ মহাশূণ্য থেকে ভয়ানক এই শক্তি পৃথিবীতে এসে পৌঁছুত। এ সমস্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি প্রমাণ করে যে, বিশেষ এক পদ্ধতিতে পৃথিবী নিরাপদ রয়েছে। গুরত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো যে , ১৪০০ বছর পূর্বে এ আয়াতটি দ্বারা এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে :

” আর আমি আসমানকে সৃষ্টি করেছি একটি সুরক্ষিত ছাদরূপে...”



ভ্যান এলেন বেল্টটি যদি না থাকতো তবে সূর্যের ভেতরে ঘন ঘন সংঘঠিত বিশাল বিস্ফোরনের শক্তি যা Solar Flare নামে পরিচিত তা পৃথিবীর সমগ্র প্রাণী জগতকে ধ্বংস করে দিতো।আমাদের জীবনের জন্য ভ্যান এলেন বেল্ট এর গুর
ত্বের কথা বলতে গিয়ে ডঃ হিউগ রস কে বলতেহয়েছে :প্রকৃতপক্ষে সৌর জগতের অন্য যে কোন গ্রহের চাইতে আমাদের পৃথিবীর ঘনত্ব অনেক বেশী। বিশাল নিকেল-লৌহ স্তর আমাদের বিশাল ম্যাগনেটিক ফিল্ড এর জন্য দায়ী। এই ম্যাগনেটিক ফিল্ডটিই ভ্যান এলেন রেডিয়েশন বর্মটি তৈরী করেছে যা রেডিয়েশনজনিত গোলাবর্ষণ থেকে ভূপৃষ্ঠকে রক্ষা করছে। এই বর্ম বা ঢালটি না থাকলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব

small-house-aircraft-carrier-passing-earth-asteroids_311011অসম্ভব হয়ে দাড়াতো। বুধ আরেকটি পর্বতময় গ্রহ যার ম্যাগনেটিক ফিল্ড রয়েছে - এই স্তরের ক্ষমতা পৃথিবীর ভ্যান এলেন বেল্টটির চেয়ে ১০০ গুণ কম। এমনকি শুক্র গ্রহ যেটি আমাদের পাশের গ্রহ যার কোন ভ্যান এলেন বেল্ট নেই। ভ্যান- এলেন রেডিয়েশনের এই ঢালটি এক মাত্র পৃথিবীর জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে অনন্যরূপে। বিস্ফোরণের (Solar Flare) ৫৮ মিনিট পর পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে,কম্পাসের ম্যাগনেটিক সূচকটি অস্বাভাবিক নড়াচড়া প্রদর্শন করছে। আর পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের ২৫০ কিলোমিটার উপরে তাপমাত্রা সহসা বেড়ে গিয়ে ২৫০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে পৌছেঁছে। সংক্ষেপে ভূ-পৃষ্ঠের উপরে উঁচু স্তরে একটি নিখুঁত সিস্টেম কর্মরত রয়েছে। এটি আমাদের বিশ্বেরচারিদিক জুড়ে কর্মরত এবং বিশ্বকে বাইরের আসন্ন বিপদ বা আশংকা থেকে রক্ষা করছে। যদিও শতশত বছর পূর্বে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে আমাদের অবহিত করেছেন যে, পৃথিবীর বায়ুমন্ডলএকটি সুরক্ষিত ঢাল হিসেবে কাজ করছে। অথচ বিজ্ঞানীগণ কেবল সেদিনই তা জানতে পেরেছেন।এ সমস্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি প্রমাণ করে যে, বিশেষ এক পদ্ধতিতে পৃথিবী নিরাপদ রয়েছে।

vanallen1এ ছবিটিতে দেখানো হয়েছে যে, একটি উল্কা পিন্ড পৃথিবীতে প্রায় আঘাত হানতে যা‪েছ। মহাশূণ্যে চলমান বন্তুগুলো ভূ-পৃষ্ঠের জন্য ভয়ানক ভীতিকর হতে পারতো। কিন্তু যিনি (আল্লাহ) সবচেয়ে সমন্বিতভাবে সৃষ্টি করেছেন তিনি সুরক্ষার ছাদও বানিয়েছেন। বিশেষ ধরণের এই ছাদের বদৌলতে বেশির ভাগ উল্কাপিন্ড খন্ড খন্ড হয়ে বায়ুমন্ডলে পতিত হয়, কিন্তু তারপরও ভূ-পৃষ্ঠের কোন ক্ষতি করে না। গগনমন্ডল অবলোকন করতে গিয়ে বেশীরভাগ মানুষই বাযুমন্ডলের সুরক্ষার বা নিরাপদ রাখার বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখেনা। তারা প্রায় কখনই চিন্তা করেনা যে, যদি বায়ুমন্ডলের এধরণের গঠন না থাকতো, পৃথিবী কি ধরণের জায়গা হতো। উল্কার পতনের ফলে আমেরিকায়, আরিজনাতে যে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে তাই দেখা‪চ্ছে উপরের ছবিটি। বায়ুমন্ডল না থাকলে মিলিয়ন মিলিয়ন উল্কাপিন্ড পৃথিবীতে এসে পড়তো, যার ফলে তা বসবাসের অযোগ্য জায়গা হয়ে যেতো। কিন্তু বায়ুমন্ডলের সুরক্ষার দিকটি পৃথিবীর জীবজগতকে নিরাপদে বসবাস করার সুযোগ দি‪চ্ছে। নিশ্চয়ই এটি মানুষকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহরই একটি সিস্টেম এবং একটি অলৌকিক জিনিষ যা কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে।


আপনাকে ধন্যবাদ সময় নিয়ে পোষ্টটি পড়ার জন্য।

শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com/

বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৭ ] :: দিন ও রাতের গতিশীলতা কেন প্রয়োজন?

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৭] :: দিন ও রাতের গতিশীলতা কেন প্রয়োজন?

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :)

satelight-pic-of-us-at-night-power-outage-northeast

পৃথিবী আপন মেরুর উপর প্রায় প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার করে ঘুরছে। অন্য কথায় বলতে গেলে তা আপন মেরুর উপর প্রতি ঘণ্টায় এক হাজার মাইল বেগে চলছে। মনে করুন, যদি এর গতি প্রতি ঘণ্টায় দু’শ মাইল হয়ে যায় (এরূপ হওয়া একেবারেই অসম্ভব) তাহলে আমাদের দিন এবং আমদের রাত্র বর্তমানের অনুপাতে দশগুণ বেশী দীর্ঘ হয়ে যাবে। অত্যধিক রকমের উত্তপ্ত সূর্য প্রতি দিন যাবতীয় লতাগুল্ম জ্বালিয়ে দেবে। এতদসত্ত্বেও সামান্য যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে সেগুলোকে দীর্ঘ রাতের শীতলতা চিরদিনের জন্য খতম করে দেবে। সূর্য, যা এখন আমাদের জীবনের উৎস তার পৃষ্ঠদেশে বারো হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রয়েছে এবং পৃথিবী থেকে এর দুরত্ব আনুমানিক ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল। আর এই দুরত্ব বিস্ময়করভাবে অনবরত স্থিতিশীল। এই ঘটনা আমাদের জন্য সীমাহীন গুরুত্ব রাখে। কেননা যদি এই দূরত্ব হ্রাস পায় যেমন সূর্য অর্ধেক পরিমাণ নিকটবর্তী হয়ে যায়, তাহলে জমির উপর এত উষ্ণতার সৃষ্টি হবে যে, সেই গরমে কাগজ পুড়তে থাকবে, আর যদি বর্তমান দূরত্ব দ্বিগুণ হয়ে যায় তাহলে এমন শীতলতার সৃষ্টি হবে যে, তাতে জীবনের কোন অস্তিত্বই থাকবে না। এই অবস্থা তখন সৃষ্টি হবে যখন বর্তমান সূর্যের জায়গায় অন্য কোন অসাধারণ নক্ষত্র এসে পড়বে-এমন বৃহৎ নক্ষত্র, যার উষ্ণতা আমাদের সূর্যের চাইতে দশ হাজার গুণ বেশী। যদি ঐ নক্ষত্র সূর্যের জায়গায় হত তাহলে তা পৃথিবীকে নির্ঘাত আগুনের চুল্লিতে পরিণত করত। আল্লাহ তা’আলা এ সর্ম্পকে বলেন:
eunight2_pv

010.006 إِنَّ فِي اخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ

Al-Qur'an, 010.006 (Yunus [Jonah])

“দিন ও রাত পরিবর্তনে এবং আল্লাহ আসমান ও জমিনে যা কিছু সৃষ্টি করছেনে তাতে ভয়কারী সম্প্রদায়রে জন্য নিদর্শন রয়েছে (সূরা ইউনুস ১০ : ৬)”

পৃথিবী ২৩ ডিগ্রি কোণাকারে শূন্যে ঝুঁকে আছে। এই ঝুঁকে থাকাটাই আমাদেরকে ঋতুর অধিকারী করেছে। এরই ফলশ্রতিতে জমির বেশীর ভাগ অংশ আবাদের যোগ্য হয়ে উঠেছে, বিভিন্ন ধরনের লতাগুল্ম এবং ফলমূল উৎপাদিত হচ্ছে। পৃথিবী যদি এভাবে ঝুঁকে না থাকত তাহলে দুই মেরুর উপর সর্বদা অন্ধকার ছেয়ে থাকতো। ফলে সমুদ্রের বাষ্পসমূহ উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে পরিভ্রমণ করত এবং জমি হয় তুষার আবৃত থাকত, নয় মরুভূমিতে পরিণত হত। এ ছাড়াও আরো অনেক চিহ্নাদি ফুটে উঠত যার ফলশ্র“তিতে ঝোঁকবিহীন পৃথিবীর উপর জীবনের অস্তিত্ব অসম্ভব হয়ে উঠত। এটা কত অবিশ্বাস্য কথা যে, জড় বস্তু নিজেই নিজেকে এভাবে এত সুন্দর করে ও যথার্থ আকার সুবিন্যস্ত করে নিয়েছে?

1Nasa_EarthNigh_PTIমহান প্রজ্ঞাময় সমস্ত জাহানের প্রতি পালক আল্লাহ তা’আলা এ পৃথিবীতে মানব সৃষ্টি করে তার জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করেছেন। মানব জাতির প্রতি আল্লাহর নিয়ামত অফুরন্ত ও অগণিত। দিন রাতের পরিবর্তন তন্মধ্যে অন্যতম । নির্ধারিত নিয়মে দিনরাত্রির পরিবর্তন হচ্ছে। আর একথা বর্তমান জমানায় সবার কাছে সুস্পষ্ট যে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর ঘোরার কারণেই দিন ও রাতের সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বচক্ষে অবলোকন করছি যে সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে একই নিয়মে রাতের পর দিন এবং দিনের পর রাত আসছে। আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি যে, এই পরিবর্তনে আমাদের কি কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসছে? আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে বলেন:

017.012 وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلا مِنْ رَبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلا

Al-Qur'an, 017.012 (Al-Isra [Isra, The Night Journey, Children of Israel])

Day_night_over_Europe“আমি রাত্রি ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি। অতপর নিষপ্রভ অন্ধকার করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকময় করেছি।“ (সূরা ইসরা ১৭ : ১২)

আধুনিক বিজ্ঞান বর্ণনা করেছে যে, এই দিন রাতের পরিবর্তন যদি না হতো তবে পৃথিবীর এক পৃষ্ঠের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যেত এবং অন্য পৃষ্ঠে ঠান্ডায় মানব জাতি সহ সমস্ত জীবকুল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিত।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

028.071 قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِضِيَاءٍ أَفَلا تَسْمَعُونَ

028.072 قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ أَفَلا تُبْصِرُونَ

Al-Qur'an, 028.071-072 (Al-Qasas [The Story, Stories])

activeearth_18962

“বলুন তোমরা ভেবে দেখেছ কি আল্লাহ যদি রাত্রিকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন। আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন উপাস্য আছে কি যে তোমাদেরকে আলোকময় দিন এনে দিবে? তোমরা কি তবুও কর্ণপাত করবে না? বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি আল্লাহ যদি দিনকে কিয়ামতের দিন পযর্ন্ত স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য আছে কি যে তোমাদেরকে রাত্রি দান করতে পারে যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে? তোমরা কি তবুও ভেবে দেখবে না?” (সূরা কাসাস ৭১-৭২)

আল্লাহ তা’আলা মানব জাতিকে সৃষ্টি করে তাদের জন্য পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে দিয়েছেন। যথোপযুক্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করেছেন, খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা করেছেন যা দিয়ে ক্ষুধা ও পিপাসা নিবারণ করতে পারে। পাহাড় পর্বত স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী হেলে দুলে না যায়, সেখানে আর ব্যবস্থা করেছেন নদ নদী, গাছ পালা সহ প্রত্যেক জিনিসের সুসামঞ্জস্যতা।

আল্লাহ তা’আলা বলেন :

040.064 اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأرْضَ قَرَارًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ

Al-Qur'an, 040.064 (Al-Ghafir [The Forgiver [God]])

তিনিই মহান আল্লাহ যিনি পৃথিবীকে আবাস যোগ্য করেছেন (সূরা গাফের৤

আল্লাহ আমাদের জ্ঞান ও সুবুদ্ধি বাড়িয়ে শান্তির পথে রাখুন।আমিন।


শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com/

শনিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৬] :: আমাদের এ পৃথিবী- ডিম্বাকার ,গোলাকার না সমতল?

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) আপনাদের সেবায় আজ খুব কমন বিষয় এনেছি তা হলো-

কুরআনে প্রযুক্তি [পর্ব-] :: আমাদের এ পৃথিবী- ডিম্বাকার ,গোলাকার না সমতল?

geoid shap of earthআদিম সময়কাল থেকে মানুষের অনুমানপূর্ব ধারনা করত যে, পৃথিবীর আকার হচ্ছে চ্যাপ্টা বা সমতল। হাজার বছর ধরে হাস্যকরভাবে মানুষ বেশি দূর পযর্ন্ত ভ্রমন করত না পৃথিবীর কিনারা থেকে ছিটকে পড়ে যাবার ভয়ে । ১৫৯৭ সালে ফ্রান্সিস ড্রেক প্রথম পৃথিবীর চারদিকে নৌ-ভ্রমন করে প্রমান করেছিলেন যে, পৃথিবী গোলাকার। দিনরাত্রির পরিবর্তন সম্পর্কে আল কোরআনের নিচের আয়াতটির দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক-

031.029 أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى وَأَنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

“তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পযর্ন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন? ” [সুরা লুকমান-৩১:২৯]
লক্ষনীয় যে এখানে বলা হচ্ছে, রাত ধীরে ধীরে এবং ক্রমশ দিনে রূপান্তরিত হয়, অনুরূপভাবে দিনও ধীরে ধীরে রাতে রূপান্তরিত হয়। এ ঘটনা কেবল পৃথিবী গোলাকার হলেই ঘটতে পারে। পৃথিবী যদি চ্যাপ্টা বা সমতলভূমি হত, তাহলে রাত্রি থেকে দিনে এবং দিন থেকে রাত্রিতে একটা আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে যেত। অর্থাৎ সেকেন্ডের মধ্যে দিন হতো আবার সেকেন্ডের মধ্যেই কিছু বুঝে উঠার আগেই রাতের প্রবেশ ঘটতো। একই তথ্য আল্লাহপাক দিয়েছেন সুরা যুমার : ৩৯ : ৫

৩৯ : ৫- خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لأجَلٍ مُسَمًّى أَلا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ

তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রি দিয়ে দিনকে আ‪ছাদিত করেন এবং দিন দিয়ে রাত্রিকে আ‪ছাদিত করেন। তিনি নিয়মাধীন করেছেন সূর্য ও চন্দ্রকে। প্রত্যেকেই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলতে থাকবে। জেনে রাখ তিনি পরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল। (কোরআন, ৩৯ : ৫)

globe-e1273717716551Al-Qur'an, 039.005 (Az-Zumar [The Troops, Throngs])

উপরোক্ত বর্ণনা দিতে গিয়ে কোরআনে যে সমস্ত শব্দাবলী ব্যবহৃত রয়েছে - সেগুলো বেশ উল্লেখযোগ্য। “আ‪ছাদিত বা মোড়ানো” অর্থে উপরের আয়াতটিতে যে আরবী শব্দটির ব্যবহার করা হয়েছে সেটি হলো “يُكَوِّرُ”। ইংরেজীতে এর অর্থ ”একটি জিনিষ দ্বারা অপর একটি জিনিষকে জড়িয়ে বা মুড়িয়ে দেয়া - যা কিনা একটি পোষাকের মতো ভাঁজ করা অবস্থায় গোছানো রয়েছে।” (উদারহণত, পাগড়ী যেমন করে পরিধান করা হয়, ঠিক তেমনিভাবে একটি জিনিষ দিয়ে অপরটিকে জড়ানোর কাজে আরবী অভিধানে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে)। দিন ও রাত্রি পরস্পরকে জড়িয়ে বা আ‪ছাদিত অবস্থায় রয়েছে - আয়াতটিতে প্রদত্ত এই তথ্য দ্বারা পৃথিবীর আকৃতির সঠিক তথ্যই প্রদান করা হয়েছে। এ অবস্থাটি কেবল সেই পযার্য়ে সঠিক হতে পারে যখন পৃথিবীর আকৃতি হয় গোলাকার।

এর অর্থ সপ্তম শতাব্দীতে নাযিলকৃত কোরআনে পৃথিবী গোলাকার হওয়ার বিষয়টির ইংগিত দেয়া হয়েছিল। যাই হোক এটা স্মরণ রাখা উচিত যে মহাবিশ্ব সম্পর্কে সে সময়কার জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞান ছিল ভিন্নরূপ। তখনকার সময় মনে করা হতো যে পৃথিবী একটি সমতল এলাকা আর এ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞান বিষয়ক সমস্ত গণনা আর ব্যাখ্যাদি দাড় করানো হয়েছিল। অথচ আমরা গত শতাব্দীতে যে তথ্যটি জেনেছি তা কোরআনের আয়াতটিতে অন্তভুক্ত ছিল। যেহেতু কোরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী, সেহেতু যখন মহাবিশ্বের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, তখন সবচাইতে শুদ্ধ আর সঠিক শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

“তুমি কি দেখ না আল্লাহ রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিবর্তন করেন?” (সূরা আল লুকমান, ৩১:২৯) “তিনি রাত্রি দ্বারা দিনকে আচ্ছাদিত করেন এবং রাত্রিকে আচ্ছাদিত করেন দিন দ্বারা।” (সূরা আয যুমার, ৩৯:৫)

পেঁচানো বা জড়ানো আরবী শব্দ কাওওয়াররার অনুবাদ। এর মূল অর্থ হচ্ছে মাথার চারপাশে পাগড়ী পেঁচিয়ে বাঁধা। অবিরত পেঁচানোর পদ্ধতি-যাতে এক অংশ আরেক অংশের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে, কুরআনে এমনভাবে বলা হয়েছে যে মনে হয় সে সময়ে পৃথিবীর গোলাকৃতি হওয়ার ধারণার সাথে মানুষ পরিচিত ছিল, যা স্পষ্টতঃই সত্য নয়।

পৃথিবী বলের মত পুরপুরি গোলাকার নয় বরং কমলা বা ডিমের মত, নিচের আয়াতে পৃথিবীর আকারের বর্ণনা দেয়া হয়েছে-

marco-polo-day-n-night-globe-educational-toys-400x400079.030 وَالأرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا

“আর আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে উহার পর ডিম্বাকৃতি করে তৈরি করেছেন”[৭৯:৩০]


Al-Qur'an, 079.030 (an-Naziat [Those who Drag Forth, Soul-Snatchers])
এখানে ডিমের জন্য ব্যাবহৃত আরবি শব্দ হচ্ছে “دَحَاهَا” , যার অর্থ হচ্ছে উট পাখির ডিম, এবং উট পাখির ডিমের আকৃতি হল পৃথিবীর মত। স্যাটেলাইট হতে প্রাপ্ত ছবি ও বিভিন্ন জটিল যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পরীক্ষা- নীরীক্ষার দ্বারা সুনিশ্চিত হওয়া গেছে আমাদের এ পৃথিবী exactly উট পাখির ডিমের ন্যায়। এইভাবে কোরআনে ১৪০০ বছর আগে পৃথিবীর আকৃতির বর্ণনা সঠিক দেয়া হয়েছে, যদিও পৃথিবী চ্যাপ্টা হবার ধারনাটাই তখন প্রচলিত ছিল।

আপনাকে ধন্যবাদ সময় নিয়ে পোষ্টটি পড়ার জন্য।



শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com/

মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-১৭] :: আংগুল-রেখা সিষ্টেম আমাদের কিভাবে সনাক্ত করে?



আসসালামুআলাইকুম শুভেচ্ছা সবাইকে :) ।সবা ভাল আছেন আল্লাহর রহমতে আশা করি।
কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-১৭] :: FingerPrint সিষ্টেম আমাদের কিভাবে সনাক্ত করে?

আবিষ্কার:-      
 ইংল্যান্ডের অধিবাসী  Sir Francis Gold আবিষ্কার করেন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের আঙ্গুলের ছাপ ভিন্ন রকম, কেবল গত ঊনবিংশ শতাব্দিতে গুরত্বপূর্ণ বিষয়টি অর্থাৎ অঙ্গুলির ছাপের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে। মানুষ এর আগে এগুলোকে কোন সাধারণ গুরত্বহীন বক্ররেখা হিসেবেই ভাবতো। শরীরের অন্যান্য প্রত্যঙ্গের মতো অতি স্বাভাবিক এক অস্তিত্ব রুপে গ্রহন করেছিল মানব সমাজ ,এর গভীরতম তাৎপযের্র প্রতি তেমন ভ্রুক্ষেপ করেনি। যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর অর্থাৎ ১৮৮০ সাল হতেই আঙ্গুল-ছাপ একটি বৈজ্ঞানিক সনাক্তকরন সংকেতরুপে বিভিন্ন কাজে ব্যবহ্রত হতে শুরু করে।

প্রতিটি মানুষের আংগুল বহন করে ভিন্ন ডিজাইন:-
এমন কোনো ব্যক্তি পৃথিবীতে পাওয়া যাবে না যার আঙ্গুলে ছাপ অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে সম্পূর্ন মিলে যাবে। এমনকি হুবহু একই রূপ যমজ সন্তানের পর্যন্ত প্রত্যেকেরই রয়েছে অনন্য সাধারণ ভিন্ন অঙ্গুলির রেখাসমূহ। ভিন্ন-দৃষ্টিতে বলা যায়  মানুষের স্বরুপ তাদের অঙ্গুলি সমূহে সংকলনভুক্ত অথাৎ সংকেতিক কোডের সাহায্যে লেখা রয়েছে। আধুনিক কম্পিউটার জগতে ব্যবহৃত রেখা-সঙ্কেত অথবা বারকোড সিস্টেমের সঙ্গে তুলনা করা চলে মানুষের আংগুলের সংকলনের এই সুচারু গঠনটিকে। অঙ্গুলীর রেখা সমূহের উপর গুরত্ব প্রদান করার ব্যাপারে একটি বিশেষ অর্থ একটাই প্রত্যেকের অঙ্গুলীর রেখাসমূহ অমিশ্র অদ্বিতীয়। প্রতিটি মানুষ, মৃত কিংবা