মোট পৃষ্ঠাদর্শন

মহাকাশবিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মহাকাশবিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১১ মে, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব- ৩০ ]- লোহার উৎপত্তিস্থল কোথায়?

কুরআনে প্রযুক্তি [পর্ব- ৩০ ]- লোহার উৎপত্তিস্থল কোথায়?
আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) ।সবাই ভাল আছেন আল্লাহর রহমতে আশা করি। অনেকদিন ধরে ”কুরআনে প্রযুক্তি” চেইন টিউনটি বন্ধ রেখেছিলাম “হাদিস সফটওয়্যার তৈরির জন্য”। প্রতি পোষ্টে আপনাদের অনেক উৎসাহব্যঞ্জক ফোন পেয়েছি বহু অনুরোধ উপেক্ষা করতে না পারায় আবারোও শুরু করলাম শত ব্যস্ততার মাঝে। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে লোহার ব্যবহার ও অবদান অনস্বীকারর‌্য। জীবনের শুরু হতে কবরে যাবার আগ পর‌্যন্ত এ প্রযুক্তির যুগে আমাদের প্রতিটি ব্যবহার‌্য বস্তুতে লোহা নাম বস্তুটি জড়িয়ে আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এত লোহা আসে কোত্থেকে? আমাদের মধ্যে অনেকেই জানিনা প্রকৃতপক্ষে লোহার উৎপত্তিস্থল কোথায়? আসুন দেখি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আল-কুরআনে আমাদের এ সম্পর্কে কি বলেছেন-



আল- কুরআনেকি বলা হয়েছে?

পবিত্র কুরআনে লৌহ ধাতুকে বিশেষ গুরত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা হাদীদে লৌহ সম্পর্কে আমরা যা অবগত হই তা নিম্নরূপঃ

আর আমি প্রেরণ করেছি লৌহ, যাতে রয়েছে প্রচন্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য আরো বহুবিধ উপকার। (কোরআন, ৫৭: ২৫) (অনুবাদ:- মাওলানামুহিউদ্দীন, উম্মুলকোরা, সৌদিআরব)

057.025 لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ

057.025 We sent aforetime our messengers with Clear Signs and sent down with them the Book and the Balance (of Right and Wrong), that men may stand forth in justice; and We sent down Iron, in which is (material for) mighty war, as well as many benefits for mankind, that Allah may test who it is that will help, Unseen, Him and His messengers: For Allah is Full of Strength, Exalted in Might (and able to enforce His Will).

Al-Qur'an, 057.025 (Al-Hadid [The Iron])



আয়াতের বিশ্লেষন:-

আল-কুরআনের ৫৭ নং সুরাটির নাম হাদিদ যার বাংলা অর্থ লোহা, আয়াতটিতে লৌহ সম্পর্কে নাযিল হয়েছে ও বিজ্ঞানের নিগূঢ় তথ্য লূক্কায়িত আছে।। লক্ষণীয় বিষয় যে, কুরআন মাজিদ পৃথিবীতে লোহার অবতরণ বুঝাতে ‘আনযালা’ (ل ﻥ) শব্দটি ব্যবহার করেছে ‘‘প্রেরণ করেছি’’ শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। লৌহকে মানুষের উপকারের জন্য দেয়া হয়েছে - উপমাগতভাবে এ অর্থেও শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ যখন আমরা বিবেচনায় আনি, যার অর্থ হলো ’’লৌহকে বাস্তবিকই সশরীরে আকাশ থেকে নিম্নে পাঠানো হয়েছে’’- তখন আমরা হৃদয়ংগম বা উপলব্ধি করতে পারি আয়াতটি‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪‪ , কেননা আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যায় প্রাপ্ত তথ্যসমূহ উদঘাটন করেছে যে, আমাদের পৃথিবীতে প্রাপ্ত লৌহ মহাশূণ্যের বিশাল বিশাল নক্ষত্রসমূহের ধ্বংসের ফলে টুকরো টুকরো হয়ে পৃথিবীতে এসেছে এবং আসছে। মহাবিশ্বে বড় বড় নক্ষত্রের কেন্দ্রে ভারী ধাতুগুলো উৎপন্ন হয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে যে আমাদের ক্ষুদ্র সৌর জগতের নক্ষত্রগুলোর নিজেদের লৌহ উৎপন্ন করার মতো যথাযোগ্য গঠন নেই।

বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন:-

আমাদের সূরেযর উপরস্থিত তাপমাত্রা হলো ৬০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস
বা প্রায় ১১০০০ ডিগ্রী ফারহানেট। অভ্যন্তর কোর (Inner core) ২ কোটি সেলসিয়াস বা ৩.৫০ কোটি ডিগ্রী ফারহানেট। লৌহ একমাত্র উৎপন্ন হতে পারে আমাদের সূর্যের চেয়েও বড় বড় নক্ষত্র যেখানে তাপমাত্রা কয়েক বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডিগ্রীতে পৌঁছে, অর্থাৎ এ হতে প্রতিয়মান হয় লৌহ উৎপন্ন করার মত যোগ্যতা আমাদের সৌরজগতের নেই। Astro Physics scientist গন এখন স্বীকার করেন ও তাঁদের প্রাপ্ত গবেষনায় আমরা জানতে পারি যে, আমাদের সৌর জগতের পুরো শক্তি এক পরমাণু লোহা উৎপাদনের জন্যও যথেষ্ট নয়। অধিকন্তু তারা বলেন, পৃথিবীর উপরিভাগে এক পরমাণু পরিমাণ লোহা উৎপাদন করার জন্যে আমাদের সৌর জগতের চারশতগুণ অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হবে। একটি নক্ষত্রে যখন লৌহের পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে ছাড়িয়ে যায়, তখন নক্ষত্রটি সে পরিমাণ শক্তি ও উত্তাপ আর ধারণ করে রাখতে পারে না। অবশেষে তা বিস্ফোরিত হয় এমনভাবে যাকে বলা হয় Nova নোভা বা সুপার নোভা। এই বিস্ফোরণের ফলে লৌহ বহনকারী উল্কাগুলো বিশ্বব্রহ্মান্ডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় এবং তারা ততক্ষণ পর্যন্ত শূণ্যে চলাফেরা করে যতক্ষন পর্যন্ত মহাশূণ্যজাত পদার্থগুলোর মাধ্যাকর্ষনজনিত বল দ্বারা (বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ, উল্কা, ছড়িয়ে –ছিটিয়ে থাকা এন্ড্রোমিডা, ব্যাল্ক হোল) আকৃষ্ট না হয়। এভাবে scientist গন এই উপসংহারে পৌঁছে যে, লোহা একটি অতি জাগতিক বস্ত্ত, যা পৃথিবীতে এসেছে অন্য কোনো গ্রহ থেকে। Kazi, 130 Evident Miracles in the Qur'an, 110-111; and www.wamy.co.uk/announcements3.html, from Prof. Zighloul Raghib El-Naggar's speech.



বিশেষজ্ঞগনের মতামত কি-

এ সম্পর্কে "The Galactic Environment of the Sun," সম্পাদনায় একটি গুরুত্বপূর্ন তথ্য দেয়া হয়েছে-

There is also evidence for older supernova events: Enhanced levels of iron-60 in deep-sea sediments have been interpreted as indications that a supernova explosion occurred within 90 light-years of the sun about 5 million years ago. Iron-60 is a radioactive isotope of iron, formed in supernova explosions, which decays with a half life of 1.5 million years. An enhanced presence of this isotope in a geologic layer indicates the recent nucleosynthesis of elements nearby in space and their subsequent transport to the earth (perhaps as part of dust grains). Priscilla Frisch, "The Galactic Environment of the Sun," American Scientist, January-February 2000; www.americanscientist.org/template/AssetDetail/assetid/21173?fulltext=true

বিখ্যাত মাইক্রো-
বায়োলজিষ্ট Michael Denton তারঁ নেচার ডেসটিনি গ্রন্থে লৌহ সম্পর্কে জোর দিতে গিয়ে বলেছেন যা হুবহু তুলে ধরা হলো-

Of all the metals there is none more essential to life than iron. It is the accumulation of iron in the center of a star which triggers a supernova explosion and the subsequent scattering of the vital atoms of life throughout the cosmos. It was the drawing by gravity of iron atoms to the center of the primeval earth that generated the heat which caused the initial chemical differentiation of the earth, the outgassing of the early atmosphere, and ultimately the formation of the hydrosphere. It is molten iron in the center of the earth which, acting like a gigantic dynamo, generates the earth's magnetic field, which in turn creates the Van Allen radiation belts that shield the earth's surface from destructive high-energy-penetrating cosmic radiation and preserve the crucial ozone layer from cosmic ray destruction... Ibid


লৌহের অবদান কতখানি আমদের জীবন মহাবিশ্বে:-

Chemical Education নামক আমেরিকান এক সাময়িকীতে ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যায় এবং New Scientists -এর ১৩ জানুয়ারি ১৯৯০ সংখ্যায় বলা হয়েছে : লোহার পরমাণু কণিকাসমূহ সাধ্যাতীত দৃঢ়ভাবে ঘনীভূত। লোহা হল সর্বাধিক ভারী পদার্থ যা মানসম্মত পারমাণবিক প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে একটি নক্ষত্রে তৈরি হয়েছে। এতে রয়েছে সর্বাধিক সুদৃঢ় নিউক্লিয়াস। লোহাকে সংশ্লেষণ করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন তা পৃথিবীতে সুলভ নয়। তাই, পৃথিবীতে যে লোহা পাওয়া যায় নিঃসন্দেহে তা বাইরের মহাকাশে সংশ্লেষিত। লৌহ এটম ব্যতীত আমাদের এ পৃথিবীতে কার্বন নির্ভর প্রানের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, কোন সুপার নোভা , পৃথিবীব্যাপী উত্তাপ, কোন বায়ুমন্ডল, কোন পানির স্তর কল্পনা করা অবাস্তব। লৌহ ব্যতীত পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড, ভ্যান এলেন রেডিয়েশন বেল্ট, ওজোন স্তর, কোন ধাতুর অস্তিত্ব আমাদের শরীরে (উলেখ্য যে আমাদের দেহে রক্তের একটি উপাদান হিমোগ্লোবিন যার কার্য পদ্বতি ও অস্তিত্ব লৌহ ব্যতীত অসম্ভব। লোহার অস্তিত্ব আমাদের শরীরে অতি গুরুত্বপূর্ন আমাদের হাড় ও দৈহিক গঠনের অন্যতম একটি উপাদান এ লৌহ। একটি মানব দেহের সমস্ত লৌহকে একত্রিত করলে একটি প্রমান সাইজের মার্বেলের সমান হবে।) "Highlights;" www.inm-gmbh.de/cgi-bin/frame/frameloader.pl?sprache=en&url=http://www.inm-gmbh.de/htdocs/technologien/highlights/highlights_en.htm



একটি সুন্দর উক্তি:-

Michael Denton তারঁ “নেচার ডেসটিনি” গ্রন্থে বলেছেন-

”জীবন ও লৌহের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য ও নিবিড় সম্পর্ক হলো- রক্তের লৌহ কনিকা হতে বহুদুরের গ্যালাক্সীর ধ্বংসম্মোক্ত একটি তারকার, শুধু জীববিদ্যার ধাতুগত সম্পর্কই গুরুত্বপূর্ন ইঙ্গিত বহন করেনা আমাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ মহাবিশ্বের প্রানের অস্তিত্বের প্রশ্নে একটি অতীব প্রয়োজনীয় আলোচ্য বিষয়। ”Michael J. Denton, Nature's Destiny (The Free Press: 1998), 198.
আল-হাদিদের গানিতিক কোড

উপরোক্ত বিবরন নিঃসন্দেহে লোহার এটমিক প্রয়োজনীয়তা কিছুটা হলেও বুঝতে সহায়তা করে। প্রকৃত অর্থে আল-কুরআন এর উপাদানের উপর বিশিষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। উপরন্তু আরেকটি লুক্কায়িত সত্য হলো সুরা হাদিদের ২৫ নং আয়াতে আমাদের মনোযোগ আর্কষন করেছে যা দুটি গানিতিক কোডের দিকনির্দেশনা প্রদান করে

আল-হাদিদ কুরআনের ৫৭ নং সুরা। আরবী প্রত্যেকটি শব্দের সংখ্যাবিষয়ক (gematrical) মূল্য রয়েছে অন্যার্থে আরবীর প্রত্যেকটি বাক্য একেকটি সংখ্যার উপর দাড়িয়ে আছে যাকে আবজাদ বা হিসাব আল-জুমাল বলা হয়ে থাকে। Ismail Yakit, Turk-Islam Kulturunde Ebced Hesabi ve Tarih Dusurme (Abjad Calculation and Date Deduction in Turkish-Islamic Culture), 36.

মুসলিমগন যারাঁ এ বাস্তব-সংখ্যা ব্যবহার করে থাকেন তার মধ্যে ইলম-আল-জাফর অন্যতম। Ibid., 56.এর বিস্তারিত বিবরনে আমি যাবোনা। সুরা আল হাদিদের সঙখ্যা-মূল্য যোগ করলে আমরা পাই -৫৭

 সংখ্যার একত্বে “হাদীদ” হলো ২৬ যা লৌহের এটমিক নাম্বারের দিকে ইঙ্গিত করে।



ক্যান্সার নির্মূল ঔষধ-

সাম্প্রতিক সময়ে লৌহ কনিকা ক্যান্সার উপশমে সন্দেহাতীতরুপে আশার আলো দেখিয়েছে। Dr. Andreas Jordan (যিনি জার্মানির একটি বিখ্যাত চ্যারিটেবল
হসপিটাল চালান) এর টিম ম্যাগনেটিক ফ্লুয়িড হাইপোথারমিয়া যা উচ্চ উত্তাপ জনিত ম্যাগনেটিক তরল তৈরি করে ক্যান্সার সেল ধ্বংস করে। ২৬ বৎসর বয়স্ক Nikolaus H এর উপর পরীক্ষা চালিয়ে নিম্নলিখিত ফলাফল পাওয়া গেছে-

১. আয়রন অক্সাইডবাহী লৌহ কনিকা বিশেষ সিরিঞ্জের মাধ্যমে ইনফেক্টেট স্থানে প্রবিষ্ট করানো হয়। এ কনাগুলো ব্যাধিত সেলে ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষ লক্ষ লৌহ-কনা (আয়রন অক্সাইড) যা রক্তের শ্বেত-কনিকা হতে ১০০০ গুন ক্ষুদ্র (1 cm3) যা রক্তের সাথে মিশে যায়।

২. এরপর রোগীকে একটি মেশিনে আনা হয় যার রয়েছে শক্তিশালী চুম্বকীয় ক্ষেত্র

এ চুম্বকীয় ক্ষেত্রটি দেহা-আভ্যন্তরীন চালু করা হয়। এ সময় দেহের ভেতরের লৌহ-কনা (আয়রন অক্সাইড) ৪৫ ডিগ্রী বা ১১৩ ডিগ্রী ফারেনহাইটে পৌছেঁ যায়।

৩. কয়েক মিনিটের মধ্যে ক্যান্মার সেল নিজেদের এ উত্তাপে প্রতিরোধ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে ও ক্যান্সার ধ্বংস হয়ে যায় বা দূর্বল হয়ে পড়ে।

৪. এভাবে ক্যান্সার ব্যাধিকে ধারাবাহিক কেমোথেরাপির মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব।

আয়রন অক্সাইডবাহী লৌহ কনিকা শুধু যে ক্যান্মার প্রতিরোধে ব্যবহ্রত হচ্ছে তা নয় বিভিন্ন মারাত্নক রোগ যার উপশম এখনো পুরোপুরি আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি তা আয়রন অক্সাইড ব্যবহার করে অপ্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া গেছে। এজন্য আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন বলেছেন-

আর আমি প্রেরণ করেছি লৌহ, যাতে রয়েছে প্রচন্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য আরো বহুবিধ উপকার। (কোরআন, ৫৭: ২৫) (অনুবাদ:- মাওলানামুহিউদ্দীন, উম্মুলকোরা, সৌদিআরব)

প্রকৃতপক্ষে অন্য সৌর-জগত বা হাজার কোটি মাইল দুর হতে আসা লৌহকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন-” মানুষের জন্য আরো বহুবিধ উপকার।”



পরিশেষে-

পূর্বেকার ভাষ্যকারদের কাছে ছিল কুরআন মাজিদের এক রহস্য। জ্ঞান-বিজ্ঞানের
সাম্প্রতিক উৎকর্ষতা কুরআন মাজিদের এই রহস্যকে বিজ্ঞানের একটি বাস্তব সত্যে রূপান্তরিত করেছে। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কার এমন সুনিশ্চিত জ্ঞান থাকতে পারে, যা মানব জ্ঞানের সকল স্তরকে অতিক্রম করে ও ছাপিয়ে যায়।এ সবকিছু এটাই প্রমাণ করে যে, লৌহপৃথিবীতে উৎপন্ন হয়নি বরং তা মহাশূণ্যের বিস্ফোরিত নক্ষত্রগুলো হতে উল্কা দিয়ে বহন করে নিয়ে আসা হয়েছে পৃথিবীতে এবং ’’আমরা প্রেরণ করেছি লৌহ’’-আয়াতটিতে যেমন বলা হয়েছে ঠিক তেমনি ভাবেই লৌহকে পাঠানো হয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, সপ্তম শতাব্দীতে কোরআন যখন নাযিল হয় তখনকার সময় এ বিষয়টি বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণ করা যায়নি।(আল্লাহতাআলা সবচেয়ে বেশি অবগতও মহাজ্ঞানী)

-------------------



একটি ঘোষনা-

DBHT-(ডিজিটাল বাংলা হাদিস টিম)-এরবুখারী মুসলিম ও রিয়াযুস স্ব-লিহীনের বাংলা+আরবী + ইংলিশ হাদীসের সফটওয়্যার পাওয়া যাচ্ছে-

http://islamk-janun.blogspot.com/

http://muslim.zohosites.com/

http://www.quranic-science.blogspot.com/

http://muslim-teacher.blogspot.com/

http://alquranobiggan.blogspot.com

www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

একটি উদ্যেগ আহবান:

এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে বাংলাদেশের ৯০% মুসলিম হয়েও
এখনো বাংলা সহিহ হাদিসের Free digital software বানানো হয়নি। প্রায় ২৮ কোটি বাংঙ্গালীগন অকাযর্করের ও অবহেলার ভূমিকা নিয়েছি, এ মহান দায়িত্ব থেকে আমরা মুসলিমগন একরকম নেহাতই পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অনেকেই আছেন অন বা “অফ লাইনে কাজ করার সময় UNICODE টেক্সট হাদিস হাতের কাছে তৈরি না থাকায় সবাইকে কষ্ট করে টাইপ করতে হয় অথবা অনেকে ঝামেলা এড়িয়ে যান। কিন্তু এই দিন শেষ ।

আসুননা আমরা সমম্বিতভাবে উদ্বেগ নিয়ে বাংলা সহিহ হাদিসের Unicode Software সৃষ্টি করি। আপনারা শুনে ‍খুশি হবেন আমাদের সহিহ বুখারী , মুসলিম শরীফ ও রিয়াদুস স্বালেহিনের কাজ শেষ । সফটওয়্যারটি chm ফরমেটে তৈরি হচ্ছে, ইনষ্টলের কোন ঝামেলা নেই। 1 click – এ ‍উইন্ডো ওপেন হবে এবং সহজেই ডাটা কপি,পেষ্ট করা যাবে, এছাড়াও রয়েছে পাওয়ারফূল সার্চ ও কিওয়ার্ড অপশন। যেহেতু হাজার হাজার হাদিস এর জন্য অবশ্যই টিম ওর্কের প্রয়োজন যার নামকরন করা হয়েছে সংক্ষেপে DBHT-(ডিজিটাল বাংলা হাদিস টিম)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সম্মানিত ভায়েরা/ বোনেরা বিনা পারিশ্রমিকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অতি দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছেন যার বেশিরভাই ছাত্র। উদ্দেশ্য একটাই-২৮ কোটি বাংলাভাষীর জন্য ও ৭৫০ কোটি মানুষের জন্য সম্পূর্ন বিনামূল্যে হাদিসের অনবদ্য একটি ইউনিকোড সফটওয়্যার তৈরি করা। আপনি এ মহৎ কাজে পিছিয়ে কেন ...আসুন আমাদের সাথে। সম্মানিত ভাই/ বোন যারা সদস্য হতে চান এ টিমের কর্মপদ্বতি হবে নিম্নরুপ-

1)যারা অংশ নেবেন Contribution- এ তাদের নাম ও প্রোফাইল লিংক থাকবে।

2) প্রত্যেককে সদস্য হতে হলে কমপক্ষে 100 হাদিসের ডাটা এন্ট্রি করে নিম্নলিখিত এড্রেসে পাঠিয়ে দিতে হবে।

3)আপনাকে পিডিএফ ফরম্যাটে হাদিস দেয়া হবে আপনি MS Word-এ (বিজয়, UNICODE, অভ্র যেটাতে খুশি ) টাইপ করে মেইলে এটাচ করে পাঠিয়ে দেবেন, আপনার প্রোফাইল লিংক যদি দেন ভাল হয়।

4) আপনার হাদিস পাবার পর সেটা আপডেট করে ফেসবুকে লিংক দেয়া হবে যেখান থেকে আপনি ডাউনলোড করে কাজের অগ্রগতি দেখতে পাবেন।

বিঃদ্রঃ:- এটি কোন কর্মাশিয়াল উদ্যেগ নয়। শধুমাত্র ভলান্টিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে DBHT-এর হাদিসের Digital interface তৈরি করার একটা যৌথ প্রচেষ্টা। বাংলাতে শুধু এন্ট্রি করবেন আরবী ও ইংলিশ আমরা ম্যানেজ করবো ইনশাআল্লাহ। মেইল এড্রেস ও Mob-নং ও বাংলাদেশের কোত্থেকে কাজ করছেন উল্লেখ করবেন। ১০ দিনের মধ্যে করতে পারলে ভালো হয়। আপনি ডাটা পাঠানোর পর আমরা সেটা অতি দ্রুত আপডেট করে ইয়াহু গ্রুপে আপনাকে এড করে আপডেট লিংক দেবো ইনশাআল্লাহ ধন্যবাদ। যোগাযোগ করুন।

শাহরিয়ার আজম

মেইল এড্রেস- rub_sanjida@yahoo.com

Mob-01714351057

DBHT-(ডিজিটাল বাংলা হাদিস টিম)


http://www.facebook.com/pages/DBHT/603417713008497

**আলহামদুলিল্লাহ আমরা তিনটি ভাষায় হাদিস সফটওয়্যার প্রকাশ করছি (আরবী, বাংলা ও ইংলিশ) যা এখনো পৃথিবীতে সর্বপ্রথম। বিভিন্ন কলেজ ও ইউনিভার্সিটির জন্য অত্যান্ত কার্যকরী একটা সফটওয়্যার হবে। একসময় পৃথীবিতে আমরা থাকবোনা কিন্ত এ সফটওয়্যার ব্যবহার করে কোটি কোটি মানুষ সহজে ইসলাম সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবে গবেষনার কাজে ব্যবহার করতে পারবে। অমুসলিমগন জানতে পারবেন ইসলাম ও রাসুল (সাঃ) জীবনী সম্পর্কে। রাসুল (সাঃ)-কে যারা ব্যঙ্গ করছে বেশিরভাগই ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারনেই করছে। এ সফটওয়্যার তাদের মনের ইসলাম সম্পর্কে অশিক্ষার অন্ধকার দুরীভূত করবে বলে আশা রাখি।কতো অযথা বাজে কাজ করে বা কম্পিউটার গেম খেলে আমরা সময় নষ্ট করি, না হয় এখানে কয়েক ঘন্টা সময় নষ্ট করলেন, এসুযোগ হয়তো জীবনে আর নাও পেতে পারেন, আমরা চাই আপনারও এতে অবদান থাকুক অন্তত ১০০ হাদিস টাইপ করে এ ঐতিহাসিক কর্মে অংশীদার হয়ে যান।



মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনেপ্রযুক্তি [পর্ব-১২] ::একাধিক বিশ্বের উপস্থিতি


আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) ।সবাই ভাল আছেন আল্লাহর রহমতে আশা করি।

কুরআনেপ্রযুক্তি [পর্ব-১২] ::একাধিক বিশ্বের উপস্থিতি

001.002 الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, যিনি সকল বিশ্বের প্রতিপালক।

Al-Qur'an, 001.002 (Al-Fatiha [The Opening])

wormholeএটি কুরআন মাজিদের প্রথম সুরার প্রথম আয়াত। চৌদ্দশত বছর পূর্বে মানুষের মন, পৃথিবী, সৌর জগৎ কিংবা ছায়াপথসমূহ সম্পর্কে কোনো ধরনের স্বচ্ছ ধারণা করতে অক্ষম ছিল। এমতাবস্থায় কুরআন মাজিদের সর্বপ্রথম আয়াত বলে যে, আল্লাহ তাআলা সকল বিশ্বের অধিপতি, যা পৃথিবী ব্যতীত আরও একাধিক বিশ্বের উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে। বস্ত্তত ‘সকল বিশ্বের অধিপতি’ কথাটি কুরআন মাজিদে সর্বমোট ৭৩ বার দেখা যায়। যেমন : সুরা ও আয়াত নং ২: ১৩১; ৬: ৪৫,৭১; ২৬: ১৬; ৩২: ০২;

৪১: ০৯; ৪৩: ৪৬; ৬৯: ৪৩ ইত্যাদি। বর্তমানে মানব সমাজ এ ব্যাপারে সম্যক অবহিত যে, পৃথিবী ছাড়া আরও গ্রহ রয়েছে। এই বিষয়টি জানা গেছে কেবল টেলিস্কোপ আবিষ্কার ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে। অথচ সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা তার প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এই জ্ঞান অবতীর্ণ করেছেন মানুষ টেলিস্কোপ ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি

রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব- ১০] ::বায়ুমন্ডলের স্তর

আসসালামুআলাইকুম ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি সবাইকে :)

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব- ১০] ::বায়ুমন্ডলের স্তর

১৪০০ বছর পূর্বে যখন আকাশকে একটি অখন্ড অংশ হিসেবে মনে করা হতো কোরআনে অলৌকিকভাবে তখনি বলা হলো যে এটি সাতটি ভিন্ন ভিন্ন স্তরে গঠিত। অন্য দিকে অতি সম্প্রতি আধুনিক বিজ্ঞান এ সত্যটি উদঘাটন করেছে যে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বায়ুমন্ডল সাতটি স্তর নিয়ে গঠিত। আমরা এই সূত্রে স্তরগুলোর সংখ্যা যদি হিসেব করে দেখি তবে দেখব যে, আয়াতে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে ঠিক তেমন করেই বায়ুমন্ডল সাতটি স্তর নিয়ে গঠিতঃ

১. ট্রপোস্ফিয়ার

২. স্ট্রাটোস্ফিয়ার

৩. ওযোনোস্ফিয়ার

৪. মেসোস্ফিয়ার

৫. থার্মোস্ফিয়ার

৬. আয়নোস্ফিয়ার

৭. এক্সোস্ফিয়ার

মহাবিশ্ব সম্পর্কে কোরআনের তথ্যগুলোর একটি হলো যে, আকাশ সাতটি স্তর নিয়ে গঠিত।

002.029 هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الأرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

তিনি এমন যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের কল্যাণের জন্য পৃথিবীর সবকিছু। তারপর তিনি মনোযোগ দিলেন আকাশের প্রতি এবং বিণ্যস্ত করলেন তা সাত আসমানরূপে। আর তিনি সর্ববিষয়ে সবিশেষ অবহিত।

Al-Qur'an, 002.029 (Al-Baqara [The Cow])

041.011 ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلأرْضِ اِئْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ

041.012 فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ

অতঃপর তিনি আসমানের প্রতি মনোনিবেশ করলেন, তখন তা ছিল ধূম্রবৎ। তারপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেনঃ তোমরা উভয়ে আস স্বে‪ছায় কিংবা অনি‪ছায়। তারা উভয়ে বললঃআমরা স্বে‪ছায় ও সানন্দে আসলাম। তারপর তিনি আকাশমন্ডলকে দু’দিনে সাত আসমানে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আসমানে তার জন্য আদেশ প্রেরণ করলেন। আর আমি নিকটবর্তী আসমানকে সুশোভিত করেছি নক্ষত্ররাজি দিয়ে এবং তাকে হেফাজত করেছি। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবপনা।

Al-Qur'an, 041.011-012 (Fussilat [Explained in Detail])

কোরআনের বহু আয়াতে যে “Heavens” শব্দটি এসেছে তা দ্বারা পৃথিবীর উপরের আকাশ তথা মহাবিশ্বকে বুঝানো হয়ে থাকে। এ শব্দটির এমন অর্থ হলে দেখা যায় যে পৃথিবীর আকাশ কিংবা বায়ুমন্ডল সাতটি স্তর নিয়ে গঠিত। বাস্তবিকই এখন জানা গিয়েছে যে, পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের রয়েছে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে পৃথিবীর। এগুলোরই একটি হলো বায়ুমন্ডল, যা জীব জগৎকে রক্ষা করার কাজে বর্ম হিসেবে কাজ করে। আজ এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, বায়ুমন্ডল একটির উপর অন্যটি অবস্থিত – এমনভাবে সাতটি স্তর নিয়ে গঠিত। ঠিক কোরআনের বর্ণনার মতোই এটি ঠিক সাতটি স্তর নিয়ে গঠিত। অবশ্যই এটি কোরআনের একটি অলৌকিকত্ব। কয়েকটি স্তর যেগুলোর একটি আরেকটির উপর অবস্থিত । তেমনি ঠিক সাতটি স্তর নিয়ে বায়ুমন্ডল গঠিত। বৈজ্ঞানিক সূত্রমতে বিষয়টি নিম্নরূপে বর্ণিত হয়ে থাকেঃ-

বিজ্ঞানীগণ পর্যবেক্ষন করেছেন যে, বায়ুমন্ডল বিভিন্ন স্তর নিয়ে গঠিত। চাপ ও গ্যাসের প্রকারের মত ভৌত গুণাবলী দ্বারা স্তরসমূহ ভিন্নতা প্রদর্শন করে। ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে নিকটতম স্তর হলোট্রপোস্ফিয়ার। বায়ুমন্ডলের ৯০ শতাংশ নিয়ে এই স্তর গঠিত। ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের স্তরটিকে বলা হয় স্ট্রাটোস্ফিয়ার। ওযোন স্তর স্ট্রাটোস্ফিয়ারেরই একটি অংশ যেখানে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি শোষিত হয়ে থাকে। স্ট্রাটোস্ফিয়ারের উপরের স্তরটিকে বলা হয় মেসোস্ফিয়ার। মেসোস্ফিয়ারের উপরে থাকে থার্মোস্ফিয়ার। এই স্তরে আয়নে পরিণত গ্যাসগুলো একটি স্তর তৈরী করে যাকে বলা হয় আয়নোস্ফিয়ার। পৃথিবীর বাযুমন্ডলের সবচেয়ে বাইরের স্তরটি ৪৮০ কিলোমিটার থেকে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরটিকে বলা হয় এক্সোস্ফিয়ার।

এ বিষয়ে আরেকটি গুরত্বপূর্ণ অলৌকিক ব্যাপার এ উক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছেঃ

041.022 وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلا أَبْصَارُكُمْ وَلا جُلُودُكُمْ وَلَكِنْ ظَنَنْتُمْ أَنَّ اللَّهَ لا يَعْلَمُ كَثِيرًا مِمَّا تَعْمَلُونَ

অতঃপর তিনি আকাশ মন্ডলকে দুদিনে সাত আসমানে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আসমানে তার জন্য আদেশ প্রেরণ করলেন। ...........। (কোরআন, ৪১ : ২২)

Al-Qur'an, 041.022 (Fussilat [Explained in Detail])

অন্য কথায় বলা যায় যে আয়াতটিতে আল্লাহ তাআলা এটাই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি প্রতিটি আসমানের জন্য তাদের করণীয় কাজ বন্টন করে দিয়েছেন। সত্যিই পূর্বের আয়াতগুলোতে আমরা দেখতে পেয়েছি যে, ভূ-পৃষ্ঠে বসবাসকারী অন্যান্য প্রাণীসহ মানবজাতির উপকারার্থে প্রতিটি স্তরই অতিপ্রয়োজনীয় কাজ করে যাচ্ছে। বৃষ্টি উৎপন্ন করা থেকে শুর
 করে ক্ষতিকর রশ্মিসমূহকে বাধা দান, বেতারতরঙ্গ প্রতিফলিত করা, উল্কা পিন্ডসমূহের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাধা দেয়া বা নিরোধ করা পর্যন্ত বিশেষ

বিশেষ কাজগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্তর ভিন্ন ভিন্নভাবে সম্পন্ন করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, বৈজ্ঞানিক সূত্রে এগুলোর একটি কাজের কথা নিম্নে উল্লেখ করা হয়েছেঃ

ভূপৃষ্ঠের বায়ুমন্ডলের রয়েছে সাতটি স্তর। সর্বনিম্ন স্তরটি হলো ট্রপোস্ফিয়ার। বৃষ্টি, বরফ আর বাতাস কেবল এ স্তরটিতেই ঘটে থাকে।এটি একটি বড় ধরণের অলৌকিক ব্যাপার যে, এই যে বিষয়গুলো বিংশ শতাব্দীর টেকনোলজী ব্যতীত উদঘাটন করা সম্ভব হওয়ার কথা ছিল না, সেগুলোই কোরআনে ১৪০০ বছর পূর্বে স্পষ্টভাবেউল্লেখ করা হয়েছিল।

**"Numerical Prediction Models used by NWS," Integrated Publishing; www.tpub.com/weather3/4-27.htm

** "The Incredible Design of the Earth and Our Solar System;"

www.godandscience.org/apologetics/designss.html

শাহরিয়ার আজম


B.Sc.IT (S.M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Brussels,Belgium

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com/

শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৯] :: তরংঙ্গের আবর্তনশীলতা বা Cyclical system

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :)

কুরআনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৯] :: তরংঙ্গের আবর্তনশীলতা বা Cyclical system



Radiation-reaching-Earth_full_size_landscapeসর্বপ্রথম স্যার বানার্ড প্যালেসি ১৫৮০ সালে পানি-চক্রের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন-পানি কিভাবে বাস্প হয়ে উপরে উঠে, মেঘ হয়,ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শে এসে বৃষ্টি হয়ে পড়ে ইত্যাদি। সম্প্রতি বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার ফলে আজ আমরা জানতে পারছি আকাশ শুধু পানিকেই ফিরিয়ে নেয় না। উপরন্তু আকাশ যোগাযোগের তরঙ্গ, মোবাইল তরঙ্গ, মানুষের কথার তরঙ্গ, যানবাহনের শব্দের তরঙ্গ ইত্যাদি ফিরিয়ে নেয়। এবং আকাশ সূর্য থেকে আসা বেশিরভাগ রশ্মি (আলট্রা-ভায়োলেট) ফিরিয়ে দেয় আয়নোস্কিয়ারের মাধ্যমে। পবিত্র কোরআনে সূরা তারিকের ১১নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা আকাশের প্রত্যাবর্তন কার্যাবলীর কথাটি উল্লেখ করেছেন :



086.011 وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الرَّجْعِ

কসম আসমানের, যা আবর্তনশীল হয়।

Al-Qur'an, 086.011 (At-Tariq [The Morning Star, The Nightcomer])



thermosphere-wJu9কোরআন অনুবাদের বেলায় এই আবর্তনশীল (Cyclical) শব্দটি আরো কটি অর্থ বুঝিয়ে থাকে ; যেমন, “ফেরৎ পাঠানো”, কিংবা “ফিরে আসা” বা “প্রত্যাবর্তন”।সবারই জানা আছে যে, পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বায়ুমন্ডল বেশ কটি স্তর নিয়ে গঠিত। এর প্রতিটি স্তরই জীবনের কল্যানে বিবিধ প্রকার গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে যা‪চ্ছে। গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে যে, স্তরগুলোয় যে সমস্ত বস্তু কিংবা রশ্মি এসে পৌঁছে সেগুলোকে আকাশে কিংবা ভুপৃষ্ঠে ফেরৎ পাঠিয়ে দেয় এই বায়ুমণ্ডল। এখন চলুন পৃথিবীকে পরিবেষ্টনকারী এই স্তরগুলোর ”আবর্তন” বা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া কিছু দৃষ্টান্তের মাধ্যমে পর্যবেক্ষন করি-

(১) ভূ-পৃষ্ঠের ১৩-১৫ কিলোমিটার উপরে ট্রপোস্ফিয়ার নামক স্তরটি ভূপৃষ্ঠ থেকে উত্থিত পানি বাষ্পকে ঘনীভূত করে বৃষ্টিরূপে ফেরৎ পাঠায়।

(২) ২৫ কিলোমিটার উপরিস্থিত ওযোন স্তরটি মহাশূণ্য থেকে আসা ক্ষতিকর রশ্মি আর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি উভয়কেই প্রতিফলিত করে মহাশূণ্যেই ফেরৎ পাঠায়।

0(৩) আয়নোস্ফিয়ার বেতার তরঙ্গ সম্প্রচারকে অপ্রতিরোধী যোগাযোগকারী উপগ্রহের (Passive Communication Satellite) ন্যায় প্রতিফলিত করে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ফেরৎ পাঠায়। আর এভাবেই তা অতি দূর দূরান্তে ওয়ারলেস যোগাযোগ, রেডিও, টেলিভিশন সম্প্রচারকে সম্ভব করে তুলে।

(৪) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে নির্গত ক্ষতিকর রেডিও একটিভ কণা (Radio Active Particle) কে ভূ-পৃষ্ঠে পৌঁছুবার পূর্বেই মহাশূণ্যে ফেরৎ পাঠায়। প্রকৃত ব্যাপারটি হলো যে, বায়ুমন্ডলের এই স্তরগুলোর বৈশিষ্ট্যাবলী যা নিকট অতীতে উন্মোচিত হয়েছে - সেগুলোই পবিত্র কোরআনে শত শত বছর আগে ঘোষিত হয়েছিল - আর এটিই আবারো প্রমাণ করে যে, কোরআন আল্লাহ তাআলারই বাণী ।

পৃথিবীতে জীবসমূহের বেঁচে থাকার জন্য পানির প্রয়োজন অপরিহার্য। ট্রপোস্ফিয়ার স্তরটি পানি উৎপন্নের কাজে সাহায্য করে ; ভূপৃষ্ঠ থেকে উত্থিত বাষ্পকে ট্রপোস্ফিয়ার ঘনীভূত করে বৃষ্টি হিসেবে পৃথিবীতে ফেরৎ পাঠায়। ওযোনোস্ফিয়ার এমন একটি স্তর যা ভূ-পৃষ্ঠের জীবসমূহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন সব রশ্মির আগমনে বাধা দেয়। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির ন্যায় ক্ষতিকর কসমিক রশ্মিগুলোকে মহাশূণ্যে ফেরৎ পাঠিয়ে দিয়ে

ওযোনোস্ফিয়ার পৃথিবীর জীবসমূহকে রশ্মিসমূহের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে থাকে।

বায়ুমন্ডলের প্রতিটি স্তরেরই রয়েছে মানব জাতির জন্য উপকারী বৈশিষ্ট্যাবলী। দৃষ্টান্ত স্বরূপ আয়নোস্ফিয়ার স্তরটি কোন নির্দিষ্ট কেন্দ্র হতে সম্প্রচারিত বেতার তরঙ্গকে প্রতিফলিত করে নিম্নে পৃথিবীতে ফেরৎ পাঠায়। এভাবেই স্তরটি দূর-দূরান্তে সম্প্রচারকে সম্ভব করে তুলেছে।আল্লাহ বলেন- নুর-২৪ আয়াত-৪৩-

024.043 أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُزْجِي سَحَابًا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَيْنَهُ ثُمَّ يَجْعَلُهُ رُكَامًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلالِهِ وَيُنَزِّلُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ جِبَالٍ فِيهَا مِنْ بَرَدٍ فَيُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَصْرِفُهُ عَنْ مَنْ يَشَاءُ يَكَادُ سَنَا بَرْقِهِ يَذْهَبُ بِالأبْصَارِ

তুমি কি দেখ না , আল্লাহ মেঘমালাকে ধীর গতিতে সঞ্চালন করেন, তারপর তার খন্ডগুলোকে পরস্পর সংযুক্ত করেন, তারপর তাকে একত্র করে একটি ঘন মেঘে পরিণত করেন, তারপর তুমি দেখতে পাও তার খোল থেকে বৃষ্টি বিন্দু একাধারে ঝরে পড়ছে৷ আর তিনি আকাশ থেকে তার মধ্যে সমুন্নত পাহাড়গুলোর বদৌলতে শিলা বর্ষণ করেন…

Al-Qur'an, 024.043 (An-Noor [The Light])

এতথ্য আরও রয়েছে-সূরা রুম-৩০, আয়াত-৪৮/ সূরা জুমার-৩৯, আয়াত-২১ ।


আপনাকে ধন্যবাদ সময় নিয়ে পোষ্টটি পড়ার জন্য।

শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com/

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-২১] :: বিভিন্ন নক্ষত্র ও উপগ্রহ

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) ।সবাই ভাল আছেন আল্লাহর রহমতে আশা করি।

কুরআনের আয়াতে কি রয়েছে?-

021.033 وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ

তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। প্রত্যেকে (মহাকাশীয় বস্ত্তসমূহ) আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণশীল। (আম্বিয়া, ২১ : ৩৩) ) (অনুবাদ:- মাওলানামুহিউদ্দীন, উম্মুলকোরা, সৌদিআরব)



041.037 وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ

তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সিজদা কর না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সিজদা কর যিনি এগুলি সৃষ্টি করেছেন। (ফুসসিলাত, ৪১ : ৩৭) ) (অনুবাদ:- মাওলানামুহিউদ্দীন, উম্মুলকোরা, সৌদিআরব)



071.015 أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا

071.016 وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا

তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করেছেন, একটির ওপর একটি এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন (উজ্জ্বল) প্রদীপরূপে। (নূহ, ৭১ : ১৫-১৬) ) (অনুবাদ:- মাওলানামুহিউদ্দীন, উম্মুলকোরা, সৌদিআরব)



সমৃদ্ধ আরবী ভাষা ও আরবীদের ভাষার দাম্ভিকতা-

পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশের ভাষার প্রাঞ্জলতা রয়েছে এবং প্রায় সব দেশের ভাষায় বিশেষতঃ ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণে দু’ধরনের সর্বনাম ও ক্রিয়া ব্যবহৃত হয় যথাক্রমে- একবচন ও বহুবচন। আলহামদুলিল্লাহ পৃথীবীর মথ্যে হাতে গোনা কয়েকটি সমৃদ্ধ ভাষার অস্তিত্ব আছে যার রয়েছে ভাষার গভীরতম প্রকাশভঙ্গিমা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগের আগমনের পূর্বে পৃথিবীটা কবিতা ও সাহিত্যের পদাচারনায় ছিল মুখরিত। সেই প্রাচীনকাল হতেই আরবরা নিজেদের ভাষার ব্যবহারে ছিল দক্ষ ও চতুর। তারা অন্যভাষীদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতো “তোমাদের ভাষার সমার্থক শব্দ আমরা বহুরুপে প্রকাশ করতে সক্ষম বিশেষ” আরবীতে বিশেষ করে এমন ভাষার ১০০-রও বেশি সমার্থক শব্দের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ ভাষার অসাধারন প্রাচুরর্যের শীষে তারা পৌছে গিয়েছিল তা আরবী কবিতা ও সাহিত্যর বিশাল সমৃদ্ধ ভান্ডার আজ আমরা দেখি। যখন তারা দাম্ভিকতার শীর্ষে ঠিক তখনই মানবজাতির সরল পথের আলোকবর্তীকা হয়ে কুরআন অবর্তীর্ন হয়েছে।প্রতিটি কবি সাহিত্যিক কুরআনের ব্যঞ্জনময় শব্দ, অতুলনীয় ছন্দ দেখে স্বীকার করে নিয়েছিলেন এ রচনা কোন মানুষের সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। ফলে তারা ইংসলামের ছায়াতলে এসে ধন্য হয়েছেন।



আরবি ব্যাকরণে দ্বি- বচনের ব্যাখ্যা-

আরবি ব্যাকরণে একটি তৃতীয় রূপের সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ ব্যবহৃত হয়, যা কেবল ‘দুই’ নির্দেশ করে। এই দ্বি- বচনের রূপটি বহুবচনের রূপ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। (বহুবচন) যা ব্যবহৃত হয় দুইয়ের অধিক সংখ্যা নির্দেশ করার জন্যে। যারা আরবি ভাষার সঙ্গে পরিচিত তারা স্বীকার করবেন যে, উপরোল্লিখিত আয়াতসমূহে সূর্য ও চন্দ্রের জন্য যে ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়েছে তা দ্বিবচনের রূপ নয়, বরং বহুবচনের রূপ। কুরআন মাজিদ এভাবে ইঙ্গিত করে যে, মহাকাশে সূর্য ও চন্দ্রের সংখ্যা কেবল দু’টি নয়, বরং অনেক।



বিজ্ঞান বিভিন্ন গ্রহ ও উপগ্রহের অস্তিত্বের জানান দেয়-

মহাকাশ বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে যে, এমন অনেক গ্রহ রয়েছে যাদের আছে একাধিক চন্দ্র (উপগ্রহ)। যেমন বৃহস্পতি গ্রহের ১৬ টি উপগ্রহ, শনির ১৭টি। আবার কিছু গ্রহে সূর্যের সংখ্যা ২টি যা আমাদের সৌরমন্ডল হতে দুরে। এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, মহাকাশে আরো অনেক গ্রহজগত রয়েছে। এবং এ সকল জগতেও তাদের নিজস্ব সূর্য ও চন্দ্র রয়েছে। যেমন কেপলার (KEPLER SYSTEM 22)নামে একটি গ্রহ সম্প্রতি আবিষ্কার করেছে যারও রয়েছে একাধিক উপগ্রহ এবং বিস্ময়করভাবে বিজ্ঞানীরা প্রানের অস্তিত্বের আশা করছেন সেখানে। এটি কুরআন মাজিদের আরো একটি আলৌকিকতা যে, তা সূর্য ও চন্দ্রের গতি বর্ণনার জন্যে সর্বনাম ও ক্রিয়ার ক্ষেত্রে দ্বিবচনের শব্দ ব্যবহার করে নি। বরং বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করেছে। প্রকৃতির সাম্প্রতিক আবিষ্কার ও গবেষণা যার সাক্ষ্য বহন করে।

আপনাকে ধন্যবাদ সময় নিয়ে পোষ্টটি পড়ার জন্য।



একটি উদ্যেগ আহবান:

এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে বাংলাদেশের 90% মুসলিম হয়েও এখনো বাংলা সহিহ হাদিসের Free digital Database বানানো হয়নি। প্রায় 22 কোটি বাংঙ্গালীগন অকাযর্করের ও অবহেলার ভূমিকা নিয়েছি, এ মহান দায়িত্ব থেকে আমরা মুসলিমগন একরকম নেহাতই পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অনেকেই আছেন অন বা “অফ লাইনে কাজ করার সময় UNICODE টেক্সট হাদিস হাতের কাছে তৈরি না থাকায় সবাইকে কষ্ট করে টাইপ করতে হয় অথবা অনেকে ঝামেলা এড়িয়ে যান। কিন্তু এই দিন শেষ ।

আসুননা আমরা সমম্বিতভাবে উদ্বেগ নিয়ে বাংলা সহিহ হাদিসের Unicode Software সৃষ্টি করি। আপনারা শুনে খশি হবেন আমািদের সহিহ বুখারীর কাজ প্রায় শেষ ।মুসলিম শরীছফর কাজ চলছে। সফটওয়্যারটি chm ফরমেটে তৈরি হবে, ইনষ্টলের কোন ঝামেলা নেই। 1 click – এ ‍উইন্ডো ওপেন হবে এবং সহজেই ডাটা কপি,পেষ্ট করা যাবে, এছাড়াও রয়েছে পাওয়ারফূল সার্চ ও কিওয়ার্ড অপশন। যেহেতু হাজার হাজার হাদিস এর জন্য অবশ্যই টিম ওর্কের প্রয়োজন যার নামকরন করা হয়েছে সংক্ষেপে DBHT-(ডিজিটাল বাংলা হাদিস টিম)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সম্মানিত ভায়েরা বিনা পারিশ্রমিকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অতি দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছেন যার বেশিরভাই ছাত্র। উদ্দেশ্য একটাই-25 কোটি বাংলাভাষীর জন্য সম্পূর্ন বিনামূল্যে বাংলা হাদিসের অনবদ্য একটি ইউনিকোড সফটওয়্যার। এ মহৎ কাজে পিছিয়ে কেন ...আসুন আমাদের সাথে। সম্মানিত ভাই/ বোন যারা সদস্য হতে চান এ টিমের কর্মপদ্বতি হবে নিম্নরুপ-

1)যারা অংশ নেবেন Contribution- এ তাদের নাম ও প্রোফাইল লিংক থাকবে।

2) প্রত্যেককে সদস্য হতে হলে কমপক্ষে 100 হাদিসের ডাটা এন্ট্রি করে নিম্নলিখিত এড্রেসে পাঠিয়ে দিতে হবে।(সময় খুব বেশি হলে মাত্র তিন ঘন্টার একটা কাজ)

3)পিডিএফ ফরম্যাটে হাদিস দেয়া হবে আপনি MS Word-এ টাইপ করে মেইলে এটাচ করে পাঠিয়ে দেবেন, আপনার প্রোফাইল লিংক যদি দেন ভাল হয়।

4) আপনার হাদিস পাবার পর সেটা আপডেট করে ফেসবুকে লিংক দেয়া হবে যেখান থেকে আপনি ডাউনলোড করে কাজের অগ্রগতি দেখতে পাবেন।

বিঃদ্রঃ:- এটি কোন কর্মাশিয়াল উদ্যেগ নয়। শধুমাত্র ভলান্টিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে DBHT-এর হাদিসের Digital interface তৈরি করার একটা যৌথ প্রচেষ্টা। বাংলাতে শুধু এন্ট্রি করবেন আরবী ও ইংলিশ আমরা ম্যানেজ করবো ইনশাআল্লাহ। যে কোন Unicode ফন্টে ডাটা রেডি করতে পারবেন।আপনার প্রোফাইল লিংক ও Mob-নং ও বাংলাদেশের কোত্থেকে কাজ করছেন উল্লেখ করবেন। ১০ দিনের মধ্যে করতে পারলে ভালো হয়। আপনি ডাটা পাঠানোর পর আমরা সেটা অতি দ্রুত আপডেট করে ফেসবুকে লিংক দেবো ইনশাআল্লাহ ধন্যবাদ। যোগাযোগ করুন।



শাহরিয়ার আজম

মেইল এড্রেস- rub_sanjida@yahoo.com

Mob-01714351057

DBHT-(ডিজিটাল বাংলা হাদিস টিম)

http://www.facebook.com/pages/DBHT/603417713008497

**আলহামদুলিল্লাহ আমরা তিনটি ভাষায় হাদিস প্রকাশ করছি (আরবী, বাংলা ও ইংলিশ) যা এখনো পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়নি।






অন্যান ওয়েব---

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com

বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৮] :: সুরক্ষিত ছাদ- Venn Allen belt

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) । আশা করি ভালো আছেন?

কুরআনে প্রযুক্তি [পর্ব-] :: সুরক্ষিত ছাদ- Venn Allen belt

magosphere

বিংশ শতাব্দীতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারা আকাশ কতৃক সুরক্ষার বৈশিষ্ট্যটি প্রমাণিত হয়েছে। স্যার Venn Allen পৃথিববি বাসীর কাছে গবেষনালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করে বলেন যে,- আমাদের পৃথিবী পৃষ্ঠের নীচে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী Magnetic field আছে যা আমাদের বায়ুমন্ডলের চারিপাশে একটি বেল্টের মতো বলয় সৃষ্টি করেছে, পরবর্তীতে আরো গবেষনায় বিজ্ঞানীগন নিশ্চিন্ত হন এবং তারঁ নামানুসারে এ বলয়ের নামকরন হয় “Venn Allen belt” । জীবনের অবিরাম গতিধারা বজায় রাখার জন্য পৃথিবীকে ঘিরে যে বায়ুমন্ডল রয়েছে তা বেশ গুরত্বপূর্ণ কাজ করে যা‪চ্ছে। যখন বড়, ছোট বহু উল্কা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তখন বায়ুমন্ডল এদের বেশিরভাগকেই ভূপৃষ্ঠে পতিত হতে দেয় না। এভাবে পৃথিবীর জীবজগতকে উল্কা পতনের ক্ষতিকর দিক থেকে বাঁচিয়ে দেয় বায়ুমণ্ডল। তা ছাড়া মহাশূণ্য থেকে জীবিত বস্তু Asteroid_hitting_the_Earth_d_by_Crypdanসমূহের জন্য ক্ষতিকর যে রশ্মি নির্গত হয় তাকে ফিল্টার করে বা ছেঁকে শোধন করে বায়ুমন্ডল। কৌতুহলের ব্যাপারটি হলো এই যে, যেসব রশ্মিসমূহ জীবের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী, যেমন, দর্শনযোগ্য আলো, Near Ultraviolet Light আর বেতার তরঙ্গকেই বায়ুমন্ডল অতিক্রম করতে দেয়। এ সমস্ত রশ্মি জীবনের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। Ultraviolet Ray, যেটি কিনা কেবল আংশিকভাবে বায়ুমন্ডল কর্তৃক আসতে পারে, তা উদ্ভিদের সালোক সংশ্লেষণ আর সমস্ত জীবসমূহের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। সূর্য থেকে যে অতি গাঢ় আল্ট্রভায়োলেট রশ্মি নির্গত হয়, তা বায়ুমন্ডলের ওযোন স্তর দিয়ে ফিল্টার হয় ; এভাবে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির অত্যন্ত সীমিত আর অতি প্রয়োজনীয় অংশ ভূ-পৃষ্ঠে এসে পোঁছে। বায়ুমন্ডলের সুরক্ষার কাজ এখানেই শেষ হয়না, মহাশূণ্যের প্রায় -২৭০ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের মতো বরফ ঠান্ডা তাপমাত্রা থেকেও বায়ুমন্ডল পৃথিবীকে রক্ষা করে থাকে। আল-কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা আকাশের একটি অত্যন্ত কৌতুহলকর বৈশিষ্ট্যের প্রতি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন :

021.032 وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَقْفًا مَحْفُوظًا وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ

আর আমি আসমানকে সৃষ্টি করেছি একটি সুরক্ষিত ছাদরূপে, কিন্তু তারা তার নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।(সুরা আম্বিয়া- ২১ : ৩২)(অনুবাদ:- মাওলানা মুহিউদ্দীন, উম্মুল কোরা, সৌদি আরব)

image_thumb9_thumbসূর্যে প্রতি মিনিটে বিস্ফোরণের ফলে নির্গত শক্তি যে কি পরিমাণ ক্ষমতা রাখে তা মানব মন কদাচিতই ভাবতে পারে। এর একটিমাত্র বিস্ফোরণ হিরোশিমায় পতিত ১০০বিলিয়ন এটম বোমার সমতুল্য। বায়ুমন্ডল আর ভ্যান এলেন বেল্টের জন্য এই শক্তির ক্ষতিকর দিক থেকে মহাবিশ্ব নিরাপদ রয়েছে।মানব জীবনের জন্য পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্যপূর্ণ করে সৃষ্ট পৃথিবী থেকে বায়ুমণ্ডলের বাইরে মহাশূণ্যে যদি আমরা সরে যাই, তবে প্রচন্ড বরফ শীতল ঠান্ডার কবলে পড়বো। পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড দ্বারা তৈরী ম্যাগনেটোস্ফিয়ার স্তর পৃথিবীকে মহাশূণ্যজাত বস্তুর ক্ষতিকর কসমিক রশ্মি এবং কণাসমূহ থেকে নিরাপদে রাখার জন্য বর্ম হিসেবে কাজ করে। ম্যাগনেটোস্ফিয়ার যার নাম ভ্যান এলেন বেল্ট - সেটিই উপরের চিত্রে দেখা যা‪চ্ছে। পৃথিবী থেকে সহস্র সহস্র কিলোমিটার উপরে অবস্থিত এই বেল্টটি মারাত্মক ক্ষতিকর শক্তি থেকে পৃথিবীর জীব জগৎকে রক্ষা করে যা‪চ্ছে, নচেৎ মহাশূণ্য থেকে ভয়ানক এই শক্তি পৃথিবীতে এসে পৌঁছুত। এ সমস্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি প্রমাণ করে যে, বিশেষ এক পদ্ধতিতে পৃথিবী নিরাপদ রয়েছে। গুরত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো যে , ১৪০০ বছর পূর্বে এ আয়াতটি দ্বারা এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে :

” আর আমি আসমানকে সৃষ্টি করেছি একটি সুরক্ষিত ছাদরূপে...”



ভ্যান এলেন বেল্টটি যদি না থাকতো তবে সূর্যের ভেতরে ঘন ঘন সংঘঠিত বিশাল বিস্ফোরনের শক্তি যা Solar Flare নামে পরিচিত তা পৃথিবীর সমগ্র প্রাণী জগতকে ধ্বংস করে দিতো।আমাদের জীবনের জন্য ভ্যান এলেন বেল্ট এর গুর
ত্বের কথা বলতে গিয়ে ডঃ হিউগ রস কে বলতেহয়েছে :প্রকৃতপক্ষে সৌর জগতের অন্য যে কোন গ্রহের চাইতে আমাদের পৃথিবীর ঘনত্ব অনেক বেশী। বিশাল নিকেল-লৌহ স্তর আমাদের বিশাল ম্যাগনেটিক ফিল্ড এর জন্য দায়ী। এই ম্যাগনেটিক ফিল্ডটিই ভ্যান এলেন রেডিয়েশন বর্মটি তৈরী করেছে যা রেডিয়েশনজনিত গোলাবর্ষণ থেকে ভূপৃষ্ঠকে রক্ষা করছে। এই বর্ম বা ঢালটি না থাকলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব

small-house-aircraft-carrier-passing-earth-asteroids_311011অসম্ভব হয়ে দাড়াতো। বুধ আরেকটি পর্বতময় গ্রহ যার ম্যাগনেটিক ফিল্ড রয়েছে - এই স্তরের ক্ষমতা পৃথিবীর ভ্যান এলেন বেল্টটির চেয়ে ১০০ গুণ কম। এমনকি শুক্র গ্রহ যেটি আমাদের পাশের গ্রহ যার কোন ভ্যান এলেন বেল্ট নেই। ভ্যান- এলেন রেডিয়েশনের এই ঢালটি এক মাত্র পৃথিবীর জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে অনন্যরূপে। বিস্ফোরণের (Solar Flare) ৫৮ মিনিট পর পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে,কম্পাসের ম্যাগনেটিক সূচকটি অস্বাভাবিক নড়াচড়া প্রদর্শন করছে। আর পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের ২৫০ কিলোমিটার উপরে তাপমাত্রা সহসা বেড়ে গিয়ে ২৫০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে পৌছেঁছে। সংক্ষেপে ভূ-পৃষ্ঠের উপরে উঁচু স্তরে একটি নিখুঁত সিস্টেম কর্মরত রয়েছে। এটি আমাদের বিশ্বেরচারিদিক জুড়ে কর্মরত এবং বিশ্বকে বাইরের আসন্ন বিপদ বা আশংকা থেকে রক্ষা করছে। যদিও শতশত বছর পূর্বে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে আমাদের অবহিত করেছেন যে, পৃথিবীর বায়ুমন্ডলএকটি সুরক্ষিত ঢাল হিসেবে কাজ করছে। অথচ বিজ্ঞানীগণ কেবল সেদিনই তা জানতে পেরেছেন।এ সমস্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যাদি প্রমাণ করে যে, বিশেষ এক পদ্ধতিতে পৃথিবী নিরাপদ রয়েছে।

vanallen1এ ছবিটিতে দেখানো হয়েছে যে, একটি উল্কা পিন্ড পৃথিবীতে প্রায় আঘাত হানতে যা‪েছ। মহাশূণ্যে চলমান বন্তুগুলো ভূ-পৃষ্ঠের জন্য ভয়ানক ভীতিকর হতে পারতো। কিন্তু যিনি (আল্লাহ) সবচেয়ে সমন্বিতভাবে সৃষ্টি করেছেন তিনি সুরক্ষার ছাদও বানিয়েছেন। বিশেষ ধরণের এই ছাদের বদৌলতে বেশির ভাগ উল্কাপিন্ড খন্ড খন্ড হয়ে বায়ুমন্ডলে পতিত হয়, কিন্তু তারপরও ভূ-পৃষ্ঠের কোন ক্ষতি করে না। গগনমন্ডল অবলোকন করতে গিয়ে বেশীরভাগ মানুষই বাযুমন্ডলের সুরক্ষার বা নিরাপদ রাখার বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখেনা। তারা প্রায় কখনই চিন্তা করেনা যে, যদি বায়ুমন্ডলের এধরণের গঠন না থাকতো, পৃথিবী কি ধরণের জায়গা হতো। উল্কার পতনের ফলে আমেরিকায়, আরিজনাতে যে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে তাই দেখা‪চ্ছে উপরের ছবিটি। বায়ুমন্ডল না থাকলে মিলিয়ন মিলিয়ন উল্কাপিন্ড পৃথিবীতে এসে পড়তো, যার ফলে তা বসবাসের অযোগ্য জায়গা হয়ে যেতো। কিন্তু বায়ুমন্ডলের সুরক্ষার দিকটি পৃথিবীর জীবজগতকে নিরাপদে বসবাস করার সুযোগ দি‪চ্ছে। নিশ্চয়ই এটি মানুষকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহরই একটি সিস্টেম এবং একটি অলৌকিক জিনিষ যা কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে।


আপনাকে ধন্যবাদ সময় নিয়ে পোষ্টটি পড়ার জন্য।

শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com/

বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৭ ] :: দিন ও রাতের গতিশীলতা কেন প্রয়োজন?

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৭] :: দিন ও রাতের গতিশীলতা কেন প্রয়োজন?

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :)

satelight-pic-of-us-at-night-power-outage-northeast

পৃথিবী আপন মেরুর উপর প্রায় প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার করে ঘুরছে। অন্য কথায় বলতে গেলে তা আপন মেরুর উপর প্রতি ঘণ্টায় এক হাজার মাইল বেগে চলছে। মনে করুন, যদি এর গতি প্রতি ঘণ্টায় দু’শ মাইল হয়ে যায় (এরূপ হওয়া একেবারেই অসম্ভব) তাহলে আমাদের দিন এবং আমদের রাত্র বর্তমানের অনুপাতে দশগুণ বেশী দীর্ঘ হয়ে যাবে। অত্যধিক রকমের উত্তপ্ত সূর্য প্রতি দিন যাবতীয় লতাগুল্ম জ্বালিয়ে দেবে। এতদসত্ত্বেও সামান্য যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে সেগুলোকে দীর্ঘ রাতের শীতলতা চিরদিনের জন্য খতম করে দেবে। সূর্য, যা এখন আমাদের জীবনের উৎস তার পৃষ্ঠদেশে বারো হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রয়েছে এবং পৃথিবী থেকে এর দুরত্ব আনুমানিক ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল। আর এই দুরত্ব বিস্ময়করভাবে অনবরত স্থিতিশীল। এই ঘটনা আমাদের জন্য সীমাহীন গুরুত্ব রাখে। কেননা যদি এই দূরত্ব হ্রাস পায় যেমন সূর্য অর্ধেক পরিমাণ নিকটবর্তী হয়ে যায়, তাহলে জমির উপর এত উষ্ণতার সৃষ্টি হবে যে, সেই গরমে কাগজ পুড়তে থাকবে, আর যদি বর্তমান দূরত্ব দ্বিগুণ হয়ে যায় তাহলে এমন শীতলতার সৃষ্টি হবে যে, তাতে জীবনের কোন অস্তিত্বই থাকবে না। এই অবস্থা তখন সৃষ্টি হবে যখন বর্তমান সূর্যের জায়গায় অন্য কোন অসাধারণ নক্ষত্র এসে পড়বে-এমন বৃহৎ নক্ষত্র, যার উষ্ণতা আমাদের সূর্যের চাইতে দশ হাজার গুণ বেশী। যদি ঐ নক্ষত্র সূর্যের জায়গায় হত তাহলে তা পৃথিবীকে নির্ঘাত আগুনের চুল্লিতে পরিণত করত। আল্লাহ তা’আলা এ সর্ম্পকে বলেন:
eunight2_pv

010.006 إِنَّ فِي اخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ

Al-Qur'an, 010.006 (Yunus [Jonah])

“দিন ও রাত পরিবর্তনে এবং আল্লাহ আসমান ও জমিনে যা কিছু সৃষ্টি করছেনে তাতে ভয়কারী সম্প্রদায়রে জন্য নিদর্শন রয়েছে (সূরা ইউনুস ১০ : ৬)”

পৃথিবী ২৩ ডিগ্রি কোণাকারে শূন্যে ঝুঁকে আছে। এই ঝুঁকে থাকাটাই আমাদেরকে ঋতুর অধিকারী করেছে। এরই ফলশ্রতিতে জমির বেশীর ভাগ অংশ আবাদের যোগ্য হয়ে উঠেছে, বিভিন্ন ধরনের লতাগুল্ম এবং ফলমূল উৎপাদিত হচ্ছে। পৃথিবী যদি এভাবে ঝুঁকে না থাকত তাহলে দুই মেরুর উপর সর্বদা অন্ধকার ছেয়ে থাকতো। ফলে সমুদ্রের বাষ্পসমূহ উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে পরিভ্রমণ করত এবং জমি হয় তুষার আবৃত থাকত, নয় মরুভূমিতে পরিণত হত। এ ছাড়াও আরো অনেক চিহ্নাদি ফুটে উঠত যার ফলশ্র“তিতে ঝোঁকবিহীন পৃথিবীর উপর জীবনের অস্তিত্ব অসম্ভব হয়ে উঠত। এটা কত অবিশ্বাস্য কথা যে, জড় বস্তু নিজেই নিজেকে এভাবে এত সুন্দর করে ও যথার্থ আকার সুবিন্যস্ত করে নিয়েছে?

1Nasa_EarthNigh_PTIমহান প্রজ্ঞাময় সমস্ত জাহানের প্রতি পালক আল্লাহ তা’আলা এ পৃথিবীতে মানব সৃষ্টি করে তার জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করেছেন। মানব জাতির প্রতি আল্লাহর নিয়ামত অফুরন্ত ও অগণিত। দিন রাতের পরিবর্তন তন্মধ্যে অন্যতম । নির্ধারিত নিয়মে দিনরাত্রির পরিবর্তন হচ্ছে। আর একথা বর্তমান জমানায় সবার কাছে সুস্পষ্ট যে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর ঘোরার কারণেই দিন ও রাতের সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বচক্ষে অবলোকন করছি যে সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে একই নিয়মে রাতের পর দিন এবং দিনের পর রাত আসছে। আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি যে, এই পরিবর্তনে আমাদের কি কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসছে? আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে বলেন:

017.012 وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلا مِنْ رَبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلا

Al-Qur'an, 017.012 (Al-Isra [Isra, The Night Journey, Children of Israel])

Day_night_over_Europe“আমি রাত্রি ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি। অতপর নিষপ্রভ অন্ধকার করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকময় করেছি।“ (সূরা ইসরা ১৭ : ১২)

আধুনিক বিজ্ঞান বর্ণনা করেছে যে, এই দিন রাতের পরিবর্তন যদি না হতো তবে পৃথিবীর এক পৃষ্ঠের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যেত এবং অন্য পৃষ্ঠে ঠান্ডায় মানব জাতি সহ সমস্ত জীবকুল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিত।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

028.071 قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ اللَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِضِيَاءٍ أَفَلا تَسْمَعُونَ

028.072 قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُمْ بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ أَفَلا تُبْصِرُونَ

Al-Qur'an, 028.071-072 (Al-Qasas [The Story, Stories])

activeearth_18962

“বলুন তোমরা ভেবে দেখেছ কি আল্লাহ যদি রাত্রিকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন। আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন উপাস্য আছে কি যে তোমাদেরকে আলোকময় দিন এনে দিবে? তোমরা কি তবুও কর্ণপাত করবে না? বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি আল্লাহ যদি দিনকে কিয়ামতের দিন পযর্ন্ত স্থায়ী করেন, তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য আছে কি যে তোমাদেরকে রাত্রি দান করতে পারে যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে? তোমরা কি তবুও ভেবে দেখবে না?” (সূরা কাসাস ৭১-৭২)

আল্লাহ তা’আলা মানব জাতিকে সৃষ্টি করে তাদের জন্য পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে দিয়েছেন। যথোপযুক্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করেছেন, খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা করেছেন যা দিয়ে ক্ষুধা ও পিপাসা নিবারণ করতে পারে। পাহাড় পর্বত স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী হেলে দুলে না যায়, সেখানে আর ব্যবস্থা করেছেন নদ নদী, গাছ পালা সহ প্রত্যেক জিনিসের সুসামঞ্জস্যতা।

আল্লাহ তা’আলা বলেন :

040.064 اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأرْضَ قَرَارًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ

Al-Qur'an, 040.064 (Al-Ghafir [The Forgiver [God]])

তিনিই মহান আল্লাহ যিনি পৃথিবীকে আবাস যোগ্য করেছেন (সূরা গাফের৤

আল্লাহ আমাদের জ্ঞান ও সুবুদ্ধি বাড়িয়ে শান্তির পথে রাখুন।আমিন।


শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com/

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-২০] :: Theory of Relativity বা সময়ের সমসাময়িকতা

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) ।সবাই ভাল আছেন আল্লাহর রহমতে আশা করি।

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-২০] :: Theory of Relativity বা সময়ের সমসাময়িকতা

আমার উদ্দেশ্য:-

সম্মানিত পাঠকমন্ডলী আজকের বিষয়ের নামটার মধ্যে আতেঁল টাইপের নামকরন বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হলেও এভাবে ট্যাগ দেয়াটা আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। যখন থেকে বাংলাভাষীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শেখার অতীব সহজ ও best platform Techtunes-এ আমার লেখার সৌভাগ্য হয় আমি চেষ্টা করবো বা করি আল-কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের বিস্ময়কর সামঞ্জস্যতা সহজ ও অনাবিল ভাষায় আপনাদের কাছে বর্ননা করতে, যাতে আপনাদের অতি সহজে বোধগম্য হয়। কঠিন শব্দের মারপ্যাচ বা সাহিত্যক প্যাচাল দিয়ে বিজ্ঞানের কঠিন ব্যারগুলোকে আরো কঠিন করতে চাইনি। বিজ্ঞান থেকে শেখার চেষ্টা করি তবে আমি ভাল ছাত্র নই বা কোন কালে ছিলামনা। ক্লাস 9-এ বিজ্ঞানের এক শিক্ষককে জিজ্ঞেস করেছিলাম স্যার (জামাল স্যার নামটা মনে আছে) আপনার শেখানোটা আমি বুঝতে পারিনি আমাকে আবার বুঝিয়ে বলেন তিনি ঘুরে কটাক্ষ স্বরে বলেছিলেন- “এটা কি তোমার মামাবাড়ি পাইছ?”

সময়ের সমসাময়িকতা’ বলতে কি বোঝায়-

আসুন আসল কথায় আসা যাক Theory of Relativity –এর সঠিক ব্যাখ্যা কি? বিজ্ঞানের আলোকে সময়কে মাপতে গেলে মূলত দুটো জিনিষের প্রয়োজন-
  1. বস্তুর ভর বা ইংরেজিতে mass
  2. গতিবেগ (velocity)
এছাড়াও তা অভিকর্ষশক্তির ওপরও নির্ভর করে। আজ সময়ের আপেক্ষিকতা একটি প্রমাণিত সত্য। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের বছরগুলোয় এ বিষয়টি বিজ্ঞানী আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতার থিওরী বা তত্ত্ব (Theory of Relativity) দ্বারা উন্মোচিত বা প্রমাণিত হয়। অথচ তখনও পর্যন্ত মানুষ জানত না যে সময় আসলে একটি আপেক্ষিক বা তুলনামূলক ধারণা আর তা পরিবেশ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনষ্টাইন এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আপেক্ষিকতার থিওরী দিয়ে প্রমাণ করে দেখান। তিনি প্রমাণ করেন যে, সময় ভর (mass) আর বেগের (velocity) উপর নির্ভরশীল। বৈজ্ঞানিক ইতিহাসে এর আগে আর কেউ এ বিষয়টিকে নিয়ে নিখুঁতভাবে প্রমাণ বা প্রকাশ করতে পারেননি।

অথচ ভিন্নভাবে পবিত্র কোরআনে এ বিষয়টি অন্তভূক্ত রয়েছে যে, সময় আপেক্ষিক। বিষয়টি সম্পর্কেকয়েকটি আয়াত যা বলে তা নিম্নরূপঃ

022.047 وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَإِنَّ يَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ

আর তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করার জন্য তাগাদা করছে। অথচ আল্লাহ কখনও তাঁরওয়াদা ভঙ্গ করেন না। নিশ্চয় আপনার রবের কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান। (কোরআন, ২২: ৪৭) (অনুবাদ:- মাওলানামুহিউদ্দীন, উম্মুলকোরা, সৌদিআরব)

যে সময়টি উপলব্ধি করছে তার উপর সময়ের ধারণাটি সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে । ভিন্নতা রয়েছে উপলব্ধির ক্ষেত্রে যেমন-কোন একটি নির্দিষ্ট সময় একজনের কাছে স্বল্প সময় হিসেবে অনুভূত হতে পারে যেখানে এটিই আবার আরেকজনের কাছে মনে হতে পারে লম্বা সময়। এখানে কে সঠিক সেটি জানতে হলে ঘড়ি আর কেলেন্ডারের মতো কিছু জিনিষ রাখা দরকার। এগুলো ছাড়া সঠিকভাবে সময় নির্ণয় করা অসম্ভব। কিছু কুরআনের আয়াত বর্ননা করছি-

032.005 يُدَبِّرُ الأمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ

তিনি আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত যাবতীয় বিষয় পরিচালনা করেন, অবশেষে তা তাঁর সমীপে এমন একদিনে পৌঁছাবে, যার পরিমাণ হবে তোমাদের গণনানুযায়ী হাজার বছরের সমান।(কোরআন, ৩২ : ৫)

070.004 تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ

ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহর সমীপে আরোহণ করে যায় এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। (কোরআন, ৭০: ৪)

এখানে লক্ষনীয় বিষয় কিছু কিছু আয়াতে নির্দেশিত রয়েছে যে, মানুষ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সময়কে উপলব্ধি করে থাকে আর কখনও কখনও খুব সংক্ষিপ্ত বা অল্প সময়কে অতি লম্বা সময় হিসেবে উপলব্ধি করে থাকে । পরকালে শেষ বিচারের দিন মানুষ যেমন ধরণের কথা-বার্তা বলবে তা এটিরই একটি পরিষ্কার উদাহরণঃ

023.112 قَالَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِي الأرْضِ عَدَدَ سِنِينَ

023.113 قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ فَاسْأَلِ الْعَادِّينَ

023.114 قَالَ إِنْ لَبِثْتُمْ إِلا قَلِيلا لَوْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ

আল্লাহ বলবেনঃ বছরের গণনায় তোমরা পৃথিবীতে কত সময় অবসান করেছিলে ?তারা বলবেঃ আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবসান করেছিলাম। অতএব আপনিগণনাকারী ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করন।আল্লাহ বলবেন ; তোমরা সেখানে অল্প সময়ই অবসান করেছিলে যদি তোমরা তা জানতে ?(কোরআন, ২৩ : ১১২-১১৪) (অনুবাদ:-মাওলানাসালাহউদ্দীনইউসুফ, পাকিস্তান)

সাধারন মানুষ কুরআন মাজিদের এই আয়াতগুলিকে একটি অসঙ্গতি বলে ধরে নিতে পারে একজন সাধারণ পাঠক। উপরের আলোচনা থেকে সহজে অনুমেয় বর্তমানে আপেক্ষিক তত্ত্ব (The theory of relativity) প্রমাণ করেছে যে, সময় হল একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। আর তাই তা পরিবেশ ও অবস্থা অনুসারে পরিবর্তিত হতে পারে। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন দেখিয়েছেন, সময়- ভর ও গতিবেগের ওপর নির্ভরশীল এবং তা অভিকর্ষশক্তির ওপরও নির্ভর করে। এখন এটা প্রমাণিত যে, পৃথিবীতে

ও মহাশূন্যে সময়ের ব্যাপারটি একই রকম নয়। কুরআন মাজিদ সময়ের এই আপেক্ষিকতার ধারণার সত্যতা স্বীকার করেছে আইনস্টাইন তা আবিষ্কার করারও প্রায় দেড় হাজার বছর আগে। বিগত আয়াতগুলি কুরআন মাজিদের বিস্ময়কর প্রকৃতির সঙ্গে একটি নতুন মাত্রা যোগ করে। পৃথিবীর আকৃতি-সম্পর্কিত বিস্ময়কর বর্ণনা, কুরআন মাজিদে শব্দসমূহের সংখ্যাগত অপূর্ব সাদৃশ্য, মহাশূন্যে মানুষের গবেষনা পরিভ্রমণ ইত্যাদি আরও উজ্জ্বল প্রমাণ সরবরাহ করে যে, কুরআন মাজিদ আল্লাহ তাআলার কালাম। এই পৃষ্ঠাগুলিও এমন অনেক ঘটনার বর্ণনা দেয় যা ছিল সেই পরিবেশে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, যেখানে কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হয়েছিল। এতদসত্ত্বেও, কুরআন মাজিদ এসব ফেনোমেনার যথাযথ ও সঠিক বর্ণনা প্রদান করে। অধিকন্তু এই পৃষ্ঠাগুলি এমন অনেক ঘটনারও বর্ণনা দেয় যা ছিল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অজানা এবং সেসব লোকদেরও অজ্ঞাত যাদের প্রতি এই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। যারা তখনো একটি টেলিস্কোপ আবিষ্কার করতে পারেননি, তথাপি এসব বর্ণনার প্রতিটি সত্য ও যথাযথ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

পূর্ববর্তী যুগের মুসলমানরা এসব আয়াতকে কুরআন মাজিদের রহস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। যতদিন তারা এসব রহস্যের পাঠোদ্ধারের প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অধিকারী হতে পারেন নি, তারা সেগুলিকে আল্লাহ তাআলার কালাম বলে গ্রহণ করে নিয়েছিল। মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী যুগের মুসলমানরা তাদের জ্ঞানের পরিসীমা অনুসারে এসব ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়। এভাবে প্রত্যেক যুগের মুসলমানরাই কুরআন কিছু কিছু রহস্যকে ইতিহাস ও বিজ্ঞানের বাস্তবতায় রূপায়িত করেন। এভাবেই কুরআন মাজিদ সকল প্রজন্মের মানুষের জন্যে একটি জীবন্ত মুজিজা হিসেবে চলমান থেকেছে। কুরআন মাজিদ সর্বদাই তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে এবং তা ভবিষ্যতেও সর্বদা মানব জ্ঞানের পরিধিকে তার শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখবে। এটি মানুষের জন্যে সর্বদা একটি শাশ্বত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিরাজিত থাকবে। সব যুগের মানুষই কুরআন মাজিদের নতুন নতুন মুজিজা আবিষ্কার করেছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

প্রকৃত সত্য ব্যাপারটি হলো যে ৬১০ সন থেকে নাযিল হতে থাকা কোরআনে সময়ের আপেক্ষিকতা বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে - এটি কোরআন আল্লাহতাআলার পবিত্র হওয়ার পক্ষে আরো একটি প্রমাণ।

খ্যাতনামা অষ্ট্রিয় নও-মুসলিম –‘আসাদ’ যিনি সর্বপ্রথম ইংরেজীতে কুরআন অনুবাদ করেছিলেন তারঁ একটি অনুবাদ পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরলাম-

012.105 وَكَأَيِّنْ مِنْ آيَةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ يَمُرُّونَ عَلَيْهَا وَهُمْ عَنْهَا مُعْرِضُونَ

012.105 And how many Signs in the heavens and the earth do they pass by? Yet they turn (their faces) away from them!

012.106 وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلا وَهُمْ مُشْرِكُونَ

012.106 And most of them believe not in Allah without associating (other as partners) with Him!

012.107 أَفَأَمِنُوا أَنْ تَأْتِيَهُمْ غَاشِيَةٌ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ أَوْ تَأْتِيَهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً وَهُمْ لا يَشْعُرُونَ

012.107 Do they then feel secure from the coming against them of the covering veil of the wrath of Allah,- or of the coming against them of the (final) Hour all of a sudden while they perceive not?

আর আসমানসমূহ ও জমিনে কত নিদর্শন রয়েছে, যা তারা অতিক্রম করে চলে যায়, অথচ সেগুলো থেকে তারা বিমুখ। তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, তবে (ইবাদতে) শিরক করা অবস্থায়। আর তারা কি নিরাপদ বোধ করছে যে, তাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সর্বগ্রাসী আজাব আসবে না, অথবা হঠাৎ তারা টের না পেতেই কিয়ামত উপস্থিত হবে না? (ইউসুফ, ১২ : ২০৫-২০৭) ) (অনুবাদ:- মাওলানামুহিউদ্দীন, উম্মুলকোরা, সৌদিআরব)

আপনাকে ধন্যবাদ সময় নিয়ে পোষ্টটি পড়ার জন্য।

একটি উদ্যেগ আহবান:

এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে বাংলাদেশের 90% মুসলিম হয়েও এখনো বাংলা সহিহ হাদিসের Free digital Database বানানো হয়নি। প্রায় 22 কোটি বাংঙ্গালীগন অকাযর্করের ও অবহেলার ভূমিকা নিয়েছি, এ মহান দায়িত্ব থেকে আমরা মুসলিমগন একরকম নেহাতই পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অনেকেই আছেন অন বা “অফ লাইনে কাজ করার সময় UNICODE টেক্সট হাদিস হাতের কাছে তৈরি না থাকায় সবাইকে কষ্ট করে টাইপ করতে হয় অথবা অনেকে ঝামেলা এড়িয়ে যান। কিন্তু এই দিন শেষ ।

আসুননা আমরা সমম্বিতভাবে উদ্বেগ নিয়ে বাংলা সহিহ হাদিসের Unicode Software সৃষ্টি করি। ইনশাআল্লাহ প্রথমে আমরা সহিহ বুখারীর হাদিস নিয়ে কাজ শুরু করবো। chm ফরমেটে তৈরি হবে, ইনষ্টলের কোন ঝামেলা নেই। 1 click – এ ‍উইন্ডো ওপেন হবে এবং সহজেই ডাটা কপি,পেষ্ট করা যাবে, এছাড়াও রয়েছে পাওয়ারফূল সার্চ ও কিওয়ার্ড অপশন। যেহেতু প্রায় 7000 হাদিস নিয়ে সহিহ বুখারী এর জন্য অবশ্যই টিম ওর্কের প্রয়োজন যার নামকরন করা হয়েছে সংক্ষেপে DBHT-(ডিজিটাল বাংলা হাদিস টিম)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সম্মানিত ভায়েরা বিনা পারিশ্রমিকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অতি দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছেন যার বেশিরভাই ছাত্র। উদ্দেশ্য একটাই-25 কোটি বাংলাভাষীর জন্য সম্পূর্ন বিনামূল্যে বাংলা হাদিসের অনবদ্য একটি ইউনিকোড সফটওয়্যার। এ মহৎ কাজে পিছিয়ে কেন ...আসুন আমাদের সােথে। সম্মানিত ভাই/ বোন যারা সদস্য হতে চান এ টিমের কর্মপদ্বতি হবে নিম্নরুপ-

1)যারা অংশ নেবেন Contribution- এ তাদের নাম ও প্রোফাইল লিংক থাকবে।

2) প্রত্যেককে সদস্য হতে হলে কমপক্ষে 100 হাদিসের ডাটা এন্ট্রি করে নিম্নলিখিত এড্রেসে পাঠিয়ে দিতে হবে।(সময় খুব বেশি হলে মাত্র তিন ঘন্টার একটা কাজ)

3)পিডিএফ ফরম্যাটে হাদিস দেয়া হবে আপনি MS Word-এ টাইপ করে মেইলে এটাচ করে পাঠিয়ে দেবেন, আপনার প্রোফাইল লিংক যদি দেন ভাল হয়।

4) আপনার হাদিস পাবার পর সেটা আপডেট করে ফেসবুকে লিংক দেয়া হবে যেখান থেকে আপনি ডাউনলোড করে কাজের অগ্রগতি দেখতে পাবেন।

বিঃদ্রঃ:- এটি কোন কর্মাশিয়াল উদ্যেগ নয়। শধুমাত্র ভলান্টিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে DBHT-এর হাদিসের Digital interface তৈরি করার একটা যৌথ প্রচেষ্টা। বাংলাতে শুধু এন্ট্রি করবেন আরবী ও ইংলিশ আমরা ম্যানেজ করবো ইনশাআল্লাহ। যে কোন Unicode ফন্টে ডাটা রেডি করতে পারবেন।আপনার প্রোফাইল লিংক ও Mob-নং ও বাংলাদেশের কোত্থেকে কাজ করছেন উল্লেখ করবেন। 3 দিনের মধ্যে করতে পারলে ভালো হয়। আপনি ডাটা পাঠানোর পর আমরা সেটা অতি দ্রুত আপডেট করে ফেসবুকে লিংক দেবো ইনশাআল্লাহ ধন্যবাদ। যোগাযোগ করুন।

**অালহামদুলিল্‌লাহ আমরা তিনটি ভাষায় হাদিস প্রকাশ করছি-আরবী, বাংলা, ইংলিশ। সহিহ বুখারীরি কাজ প্রায় শেষ।

শাহরিয়ার আজম


মেইল এড্রেস- rub_sanjida@yahoo.com

Mob-01714351057

DBHT-(ডিজিটাল বাংলা হাদিস টিম)

http://www.facebook.com/pages/DBHT/603417713008497

অন্যান ওয়েব---

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com

শনিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৬] :: আমাদের এ পৃথিবী- ডিম্বাকার ,গোলাকার না সমতল?

আসসালামুআলাইকুম ও শুভেচ্ছা সবাইকে :) আপনাদের সেবায় আজ খুব কমন বিষয় এনেছি তা হলো-

কুরআনে প্রযুক্তি [পর্ব-] :: আমাদের এ পৃথিবী- ডিম্বাকার ,গোলাকার না সমতল?

geoid shap of earthআদিম সময়কাল থেকে মানুষের অনুমানপূর্ব ধারনা করত যে, পৃথিবীর আকার হচ্ছে চ্যাপ্টা বা সমতল। হাজার বছর ধরে হাস্যকরভাবে মানুষ বেশি দূর পযর্ন্ত ভ্রমন করত না পৃথিবীর কিনারা থেকে ছিটকে পড়ে যাবার ভয়ে । ১৫৯৭ সালে ফ্রান্সিস ড্রেক প্রথম পৃথিবীর চারদিকে নৌ-ভ্রমন করে প্রমান করেছিলেন যে, পৃথিবী গোলাকার। দিনরাত্রির পরিবর্তন সম্পর্কে আল কোরআনের নিচের আয়াতটির দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক-

031.029 أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى وَأَنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

“তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পযর্ন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন? ” [সুরা লুকমান-৩১:২৯]
লক্ষনীয় যে এখানে বলা হচ্ছে, রাত ধীরে ধীরে এবং ক্রমশ দিনে রূপান্তরিত হয়, অনুরূপভাবে দিনও ধীরে ধীরে রাতে রূপান্তরিত হয়। এ ঘটনা কেবল পৃথিবী গোলাকার হলেই ঘটতে পারে। পৃথিবী যদি চ্যাপ্টা বা সমতলভূমি হত, তাহলে রাত্রি থেকে দিনে এবং দিন থেকে রাত্রিতে একটা আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে যেত। অর্থাৎ সেকেন্ডের মধ্যে দিন হতো আবার সেকেন্ডের মধ্যেই কিছু বুঝে উঠার আগেই রাতের প্রবেশ ঘটতো। একই তথ্য আল্লাহপাক দিয়েছেন সুরা যুমার : ৩৯ : ৫

৩৯ : ৫- خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لأجَلٍ مُسَمًّى أَلا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ

তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রি দিয়ে দিনকে আ‪ছাদিত করেন এবং দিন দিয়ে রাত্রিকে আ‪ছাদিত করেন। তিনি নিয়মাধীন করেছেন সূর্য ও চন্দ্রকে। প্রত্যেকেই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলতে থাকবে। জেনে রাখ তিনি পরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল। (কোরআন, ৩৯ : ৫)

globe-e1273717716551Al-Qur'an, 039.005 (Az-Zumar [The Troops, Throngs])

উপরোক্ত বর্ণনা দিতে গিয়ে কোরআনে যে সমস্ত শব্দাবলী ব্যবহৃত রয়েছে - সেগুলো বেশ উল্লেখযোগ্য। “আ‪ছাদিত বা মোড়ানো” অর্থে উপরের আয়াতটিতে যে আরবী শব্দটির ব্যবহার করা হয়েছে সেটি হলো “يُكَوِّرُ”। ইংরেজীতে এর অর্থ ”একটি জিনিষ দ্বারা অপর একটি জিনিষকে জড়িয়ে বা মুড়িয়ে দেয়া - যা কিনা একটি পোষাকের মতো ভাঁজ করা অবস্থায় গোছানো রয়েছে।” (উদারহণত, পাগড়ী যেমন করে পরিধান করা হয়, ঠিক তেমনিভাবে একটি জিনিষ দিয়ে অপরটিকে জড়ানোর কাজে আরবী অভিধানে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে)। দিন ও রাত্রি পরস্পরকে জড়িয়ে বা আ‪ছাদিত অবস্থায় রয়েছে - আয়াতটিতে প্রদত্ত এই তথ্য দ্বারা পৃথিবীর আকৃতির সঠিক তথ্যই প্রদান করা হয়েছে। এ অবস্থাটি কেবল সেই পযার্য়ে সঠিক হতে পারে যখন পৃথিবীর আকৃতি হয় গোলাকার।

এর অর্থ সপ্তম শতাব্দীতে নাযিলকৃত কোরআনে পৃথিবী গোলাকার হওয়ার বিষয়টির ইংগিত দেয়া হয়েছিল। যাই হোক এটা স্মরণ রাখা উচিত যে মহাবিশ্ব সম্পর্কে সে সময়কার জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞান ছিল ভিন্নরূপ। তখনকার সময় মনে করা হতো যে পৃথিবী একটি সমতল এলাকা আর এ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞান বিষয়ক সমস্ত গণনা আর ব্যাখ্যাদি দাড় করানো হয়েছিল। অথচ আমরা গত শতাব্দীতে যে তথ্যটি জেনেছি তা কোরআনের আয়াতটিতে অন্তভুক্ত ছিল। যেহেতু কোরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী, সেহেতু যখন মহাবিশ্বের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, তখন সবচাইতে শুদ্ধ আর সঠিক শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

“তুমি কি দেখ না আল্লাহ রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিবর্তন করেন?” (সূরা আল লুকমান, ৩১:২৯) “তিনি রাত্রি দ্বারা দিনকে আচ্ছাদিত করেন এবং রাত্রিকে আচ্ছাদিত করেন দিন দ্বারা।” (সূরা আয যুমার, ৩৯:৫)

পেঁচানো বা জড়ানো আরবী শব্দ কাওওয়াররার অনুবাদ। এর মূল অর্থ হচ্ছে মাথার চারপাশে পাগড়ী পেঁচিয়ে বাঁধা। অবিরত পেঁচানোর পদ্ধতি-যাতে এক অংশ আরেক অংশের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে, কুরআনে এমনভাবে বলা হয়েছে যে মনে হয় সে সময়ে পৃথিবীর গোলাকৃতি হওয়ার ধারণার সাথে মানুষ পরিচিত ছিল, যা স্পষ্টতঃই সত্য নয়।

পৃথিবী বলের মত পুরপুরি গোলাকার নয় বরং কমলা বা ডিমের মত, নিচের আয়াতে পৃথিবীর আকারের বর্ণনা দেয়া হয়েছে-

marco-polo-day-n-night-globe-educational-toys-400x400079.030 وَالأرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا

“আর আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে উহার পর ডিম্বাকৃতি করে তৈরি করেছেন”[৭৯:৩০]


Al-Qur'an, 079.030 (an-Naziat [Those who Drag Forth, Soul-Snatchers])
এখানে ডিমের জন্য ব্যাবহৃত আরবি শব্দ হচ্ছে “دَحَاهَا” , যার অর্থ হচ্ছে উট পাখির ডিম, এবং উট পাখির ডিমের আকৃতি হল পৃথিবীর মত। স্যাটেলাইট হতে প্রাপ্ত ছবি ও বিভিন্ন জটিল যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পরীক্ষা- নীরীক্ষার দ্বারা সুনিশ্চিত হওয়া গেছে আমাদের এ পৃথিবী exactly উট পাখির ডিমের ন্যায়। এইভাবে কোরআনে ১৪০০ বছর আগে পৃথিবীর আকৃতির বর্ণনা সঠিক দেয়া হয়েছে, যদিও পৃথিবী চ্যাপ্টা হবার ধারনাটাই তখন প্রচলিত ছিল।

আপনাকে ধন্যবাদ সময় নিয়ে পোষ্টটি পড়ার জন্য।



শাহরিয়ার আজম

B.Sc.IT (S. M University,India),/ M.A & Ph.D (Paris University, France), DEW, Belgium

http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/ http://www.quranic-science.blogspot.com/

শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-০৫] ::গ্রহ-উপগ্রহের কক্ষপথ আবতর্ন তথা tuning

আসসালামুআলাইকুম শুভেচ্ছা সবাইকে :)।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পোষ্টটি পড়ার জন্য

কুর’আনে প্রযুক্তি [পর্ব-৫] ::গ্রহ-উপগ্রহের কক্ষপথ আবতর্ন তথা tuning

Gallery_Image_8862পবিত্র কোরআনে যখনই চন্দ্র আর সূর্যের কথা বলা হয়েছে তখনই অত্যন্ত গুরত্বের সহিত উল্লেখ করা হয়েছে যে, চন্দ্র আর সূর্য দুটিই নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় রয়েছে।

”আর তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং চন্দ্র ও সূর্য। সবাই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।”(সুরা আম্বিয়া, ২১ : ৩৩)

সূর্য যে স্থির অবস্থায় নেই বরং একটি সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে বিচরণ করছে এ বিষয়টি আরেকটি আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে :

”আর সূর্য স্বীয় গন্তব্য স্থানের দিকে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।” (সুরা ইয়াসিন, ৩৬ : ৩৮)

orbitsscreen_thumbএই যে বিষয়সমূহ কোরআনের মাধ্যমে আমরা অবগত হয়েছি সেগুলো আমাদের যুগে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণ দ্বারা উদঘাটিত হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনানুসারে সূর্য SOLAR APEX নামক একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘন্টায় ৭,২০,০০০ কিলোমিটার বেগে VEGA নামক একটি নক্ষত্রের দিকে প্নচন্ড বেগে গতিশীল বা ভ্রমণরত রয়েছে। এর অর্থ এই দাড়ায় যে, সূর্য প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭,২৮০,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে থাকে। সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের মাধ্যাকর্ষণজনিত SYSTEM-এর আওতায় অন্তর্ভূক্ত অন্যান্য গ্রহ, নক্ষত্রগুলোও একই দূরত্ব অতিক্রম করে। অধিকন্তু মহাবিশ্বের সমস্ত নক্ষত্রপুঞ্জ ঠিক অনুরূপভাবে পরিকল্পিত গতিতে চলনশীল রয়েছে। ঠিক এর মতোই গোটা মহাবিশ্ব যে একই ধরণের পথ আর কক্ষপথে পরিপূর্ণ তা নিম্নরূপে

কোরআনে বর্ণিত রয়েছে :

”কসম বহু পথ আর কক্ষপথ বিশিষ্ট আসমানের।” ( সুরা যারিয়াত, ৫১ : ৭)

মহাবিশ্বে প্রায় ২০০ বিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে, প্রতিটি গ্যালাক্সি ২০০ বিলিয়ন নক্ষত্রপুঞ্জ নিয়ে গঠিত। বেশীর ভাগ নক্ষত্রের রয়েছে গ্রহ আর গ্রহের রয়েছে উপগ্রহ। গগনমন্ডলের সমস্ত বস্তুগুলোই সঠিকভাবে গণনাকৃত কক্ষপথসমূহে ঘুর্ণায়মানরত রয়েছে। মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে এদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে পরস্পরের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য ও সঠিক বিণ্যাস রেখে ”ঘুরে” বেড়া‪চ্ছে প্রচন্ড বেগে ।এছারাও রয়েছে অগুনতি ধুমকেত যা নির্ভূলভাবে নিয়ান্ত্রিতরূপে আবর্তন করছে।মহাবিশ্বের কক্ষপথরাজি কেবলি এই গগনমন্ডলীর গ্রহ-নক্ষত্রের জন্য নয়। গ্যালাক্সিগুলোও সঠিকভাবে গণনাকৃত পরিকল্পিত কক্ষপথসমূহে বিশাল গতিতে বিচরণ করে। এই আবর্তণের সময় মহাকাশের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্রহ-নক্ষত্র বা ধুমকেতু কোন একটি আরেকটির পথে চলে যায়না কিংবা সংঘর্ষে লিপ্ত হয় না। প্রত্যেক সূর্য, গ্রহ উপগ্রহ সঠিক নিয়মে নির্ভূলভাবে নিজের কক্ষ পথ ধরে কোটি কোটি বছর পরিভ্রমন করছে। যদি কোন গ্রহ বা উপগ্রহের বা সূর্যের বা ধূমকেতুর কক্ষপথে ছন্দপতন হতো তাহলে পুরো নিয়ান্ত্রিত এই বিশাল ব্রহ্মান্ড ধ্বংসযজ্ঞের ভয়ঙ্কর তান্ডবে মেতে উঠতো।

alg_solar-systemমান্য কয়েক মিলিমিটারও যদি আমাদের এ অনিন্দ্যসুন্দর পৃথিবী কক্ষচ্যুত্য হয় তবে কি ঘটবে এক্ষেত্রে Astor- Physicist- গনের একটা সুন্দর উদাহরন তুলে ধরা হল যা প্রকাশিত হয়েছিল Bilim ve Teknik (Science and Technology Journal), July 1983 সালে-

”সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী ঘূর্ণনের প্রতি 18 কি.মি- এ থেকে যদি মাত্র 2.5 millimeters সরে যায় বা বিচ্যূত হয় তবে পুরো পৃথিবীটা বরফে আবৃত্ত হয়ে পড়বে, যদি 3.1 mm ও বিচ্যূত হয় তবে আমরা সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হবো” আল্লাহ বলেন -

”আমি শপথ করছি শৃঙ্খলিত বৃত্তাকারে আবতর্নশীল মহাকাশের” (সুরা তারিক ৮৬:১১)

এ আয়াত সুষ্পষ্টরুপে এক আবতর্নশীল মহাবিশ্বের কথা আমাদের জানান দেয়। 1400 বছর আগের সময়তো সাধারন একটি টেলিস্কোপও ছিল না আর বর্তমান সময়ের মতো অত্যাধুনিক Astronomical Instrument & method তথা বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির ব্যবহারও ছিল অচিন্ত্যনীয়। কোরআন নাযিল হওয়ার কালে যে ধুমকেতুটি মহাশূণ্যজগতে অন্যান্য বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাল মিলিয়ে ঘূর্ণনরত রয়েছে তা এখনো একই পথে আল্লাহর র্নির্দেশে বিচরন করে চলছে 1 mm ও কক্ষচ্যূত্য হয়নি। যদি হতো এই সাধের পৃথিবীটা দুমড়ে-মুচড়ে ধ্বংশ হয়ে যেতো প্রান ধারনের কোন পরিবেশ থাকতোনা। গ্রহরাজি, গ্রহগুলোর উপগ্রহসমূহ, নক্ষত্রপুঞ্জ আর এমনকি গ্যালাক্সিসমূহ- এসব মহাশূণ্যজাত প্রতিটি বস্তুরই রয়েছে নিজ নিজ কক্ষপথ যেগুলো অত্যন্ত সুক্ষ্ম গণনা দ্বারা নির্ণয় করা হয়েছে (বহু পথ আর কক্ষপথ। সুরা যারিয়াত, ৫১ : ৭)। সেই আল্লাহ যিনি সমগ্র মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, তিনি এই সঠিক শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তিনিই তা বজায় রেখে যা‪চ্ছেন ।


http://www.facebook.com/pages/Al-Quran-Modern-Science/140069416050931

http://muslim.zohosites.com/              http://www.quranic-science.blogspot.com/